
জুয়েল বড়ুয়া : রাজনৈতিক কষাঘাত, মামলা-হামলা আর দীর্ঘ ত্যাগের রাজনীতি পেরিয়ে রাউজানের ৩নং চিকদাইর ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে জনগণের আস্থার প্রতিক হিসেবে নিজেকে আত্মপ্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং সংগ্রমী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মোঃ মাসুদ আলম।
স্বাধীনতার পর থেকেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে বিএনপির রাজনীতিতে অবিচল থেকেছেন এই ত্যাগী নেতা। সংসদ সদস্য ও রাউজান-৬ আসনের সর্বজনশ্রদ্ধেয় জনপ্রতিনিধি আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্নেহধন্য ও আশীর্বাদপুষ্ট মাসুদ আলম দীর্ঘ দিন ধরে চিকদাইর ইউনিয়নের আপামর জনসাধারণের পাশে থেকে সুখ-দুঃখের অংশীদার হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। রাজপথের লড়াই-সংগ্রামে বহু মামলা-হামলার মুখোমুখি হয়েও জনসেবার পথ থেকে তাকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত করা যায়নি। এবার এলাকার তৃণমূলের মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সমর্থনে ৩নং চিকদাইর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান পদে বিএনপি থেকে শক্ত দলীয় মনোনয়ন প্রার্থী হিসেবে সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন সম্ভ্রান্ত বনেদি পরিবারের এই কৃতি সন্তান।
রাজনীতিতে আগমন ও শহীদ জিয়ার আদর্শে পথচলা
রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে মোঃ মাসুদ আলমের পথচলা কোনো সাময়িক কিংবা সুবিধাবাদী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল না। স্বাধীনতার পর থেকেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত 'বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ' এবং তার বহুদলীয় গণতন্ত্র ও জনকল্যাণমুখী ভাবনায় গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হন তিনি।
তৃণমূল পর্যায় থেকে বিএনপি ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনকে শক্তিশালী করতে মাসুদ আলম সদা তৎপর ভূমিকা পালন করে আসছেন। জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নীতি ও আদর্শ বাস্তবায়নে রাজপথের লড়াইয়ে তিনি ছিলেন প্রথম সারির একজন অকুতোভয় যোদ্ধা। ক্ষমতার রাজনীতির বাইরে থেকে জনগণের অধিকার আদায় এবং রাউজানের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তার অব্যাহত প্রচেষ্টা চিকদাইর ইউনিয়নের তরুণ ও বয়োজ্যেষ্ঠ সকল শ্রেনীর মানুষের মনে এক গভীর আস্থার সৃষ্টি করেছে।
আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর আশীর্বাদপুষ্ট ও অভিভাবকত্বে জনসেবা
রাউজানের রাজনীতিতে আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এক উজ্জ্বল ও চিরস্মরণীয় নাম। তাঁর যোগ্য নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় মাসুদ আলম নিজেকে গড়ে তুলেছেন একজন আদর্শিক ও দূরদর্শী নেতা হিসেবে।
গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর হাত ধরে ও তাঁর স্নেহ-আশীর্বাদে মাসুদ আলম রাজনীতির সুবিশাল মাঠে জনগণের কল্যাণে নিবেদিত থেকেছেন। নেতৃত্বের প্রতি চরম আনুগত্য, রাউজানের মাটি ও মানুষের প্রতি অকৃত্রিম টান, এই দুই গুণই তাঁকে এলাকার সাধারণ মানুষের মনে এক অনন্য উচ্চতায় বসিয়েছে।
মামলা-হামলা ও রাজপথের ত্যাগী জীবন
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ভোটাধিকার আন্দোলনের অংশ হতে গিয়ে মোঃ মাসুদ আলমকে রাজপথে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হিংসাত্মক হামলা ও একের পর এক মিথ্যা ডজন খানেক মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু কোনো ধরনের জুলুম, জেল-জুলুম কিংবা হামলা তাঁকে দেশের ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে পিছপা করতে পারেনি।
এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠদের মতে, "মাসুদ এমন একজন রাজনৈতিক কর্মী, যাকে বিপদের সময়ে সবসময় পাশে পাওয়া যায়। মামলা-হামলার ভয় দেখিয়ে কখনো তাকে জনগণ থেকে আলাদা করা যায়নি।" ত্যাগের এই সুদীর্ঘ ইতিহাসই তাকে চিকদাইর ইউনিয়নের মানুষের কাছে এক পরীক্ষিত ও খাঁটি নেতায় পরিণত করেছে।
চিকদাইরের সাধারণ মানুষের কল্যাণ ও দারিদ্র্য বিমোচনে নিবেদিতপ্রাণ
সম্ভ্রান্ত ও বনেদি পরিবারে জন্ম নেওয়া মাসুদ আলমের ব্যক্তি জীবনের চাওয়া-পাওয়ার পরিধি রাজনৈতিক পদ-পদবীর চেয়েও জনসেবায় সীমাবদ্ধ। ধনাঢ্য ও বনেদি পরিবারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও তার সহজ-সরল ও বিনয়ী আচরণ সহজেই মানুষকে আকর্ষণ করে।
এলাকার দুস্থ, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দুঃখে সবসময় তিনি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। বন্যা, মহামারী, ঈদ উৎসব কিংবা পারিবারিক যেকোনো সংকটে চিকদাইর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের অন্যতম ভরসাস্থল হয়ে উঠেছেন তিনি। গরীব-দুঃখী মানুষের দুঃখ গোছাতে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়াই তাঁর দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
দলমত, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে "এক ছাতার নিচে" অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন
মোঃ মাসুদ আলমের রাজনীতি শুধু দলীয় সীমানায় আবদ্ধ নয়। দলমত, জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে চিকদাইর ইউনিয়নের প্রতিটি নাগরিককে এক ছাতার নিচে এনে একটি সম্প্রীতিময় সমাজ গড়ে তোলাই তাঁর একমাত্র অঙ্গীকার।
তিনি বিশ্বাস করেন, একজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব হলো এলাকার প্রতিটি নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করা। তিনি সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, "চিকদাইর ইউনিয়ন হবে বৈষম্যহীন, অন্যায়মুক্ত ও আধুনিক এক ডিজিটাল ইউনিয়ন। এখানে দলীয় বিভাজন কিংবা বৈষম্যের স্থান থাকবে না। সকল ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণি-পেশার মানুষ সমান শান্তিতে ও অধিকারে এখানে বসবাস করবে। সবাইকে এক ছাতার নিচে এনে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই আমার একমাত্র রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত অঙ্গীকার।"
ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ৩নং চিকদাইর ইউনিয়নের তৃণমূলের প্রত্যাশা
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৩নং চিকদাইর ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী মোঃ মাসুদ আলম। এলাকার তরুণ সমাজ, ব্যবসায়ী, শ্রমিক এবং প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ সর্বস্তরের মানুষের জোর দাবি একটি আধুনিক, মাদক মুক্ত, শিক্ষাবান্ধব ও কল্যাণমুখী চিকদাইর ইউনিয়ন গড়তে মাসুদ আলমের মতো একজন ত্যাগী, সাহসী ও শিক্ষিত নেতার বিকল্প নেই।
তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা জানান, মোঃ মাসুদ আলম চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হলে চিকদাইর ইউনিয়নের সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। বিচার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আসবে, যুবসমাজ মাদকের হাত থেকে রক্ষা পাবে এবং এলাকার শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত হবে।
দীর্ঘ রাজপথের লড়াই, মিথ্যা মামলা ও হামলার মুখোমুখি হয়েও যিনি মানুষের ভালোবাসা থেকে একচুলও বিচ্যুত হননি, সেই মোঃ মাসুদ আলম আজ রাউজানের ৩নং চিকদাইর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের নয়নের মণি। শহীদ জিয়ার আদর্শ, আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর দিকনির্দেশনা এবং তৃণমূলের মানুষের ভালোবাসা সাথে নিয়ে তিনি চিকদাইর ইউনিয়ন পরিষদকে নতুনভাবে সাজাতে ও জনগণের সেবক হিসেবে আত্মনিয়োগ করতে প্রস্তুত। সর্বস্তরের মানুষের একটাই প্রত্যাশা, জনগণের পছন্দের পাত্র মোঃ মাসুদ আলমই হবেন ৩নং চিকদাইর ইউনিয়নের নতুন অভিভাবক ও সফল চেয়ারম্যান।
প্রকাশক : জুয়েল বড়ুয়া। সম্পাদক : দোলন বড়ুয়া, ই-মেইল : [email protected], যোগাযোগ : ০১৮১৯৩৩৯৫৬০
২০১৮ : সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।