
সেখানে শত শত মানুষের বসতি ছিল। কোনো বৃষ্টিপাত না থাকায় স্থানীয়রা এমন দুর্যোগের কোনো পূর্বাভাসও পাননি।
ফলে মানুষ যখন নিজেদের দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত ছিলেন, তখনই উজান থেকে পানির বিশাল ঢেউ ধেয়ে আসে।
রাসুওয়ার প্রধান শুল্ক কর্মকর্তা রাজেন্দ্র ধুঙ্গানা জানান, সকালে মাটি কাঁপতে দেখে তিনি প্রথমে ভূমিকম্প হয়েছে বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু বাইরে বেরিয়ে তিনি দেখতে পান, উজান থেকে ধোঁয়ার মতো কিছু সঙ্গে নিয়ে প্রায় ১০০ মিটার উঁচু পানির দেয়াল বাজারের দিকে ধেয়ে আসছে। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই তিমুরে বাজার এলাকা পানির নিচে চলে যায়।
পানির স্রোত থেকে বাঁচতে ধুঙ্গানা ও আরও কয়েকজন কাছের জঙ্গলে আশ্রয় নেন। এ সময় সীমান্তের শুল্ক চৌকিতে অপেক্ষমাণ তিন শতাধিক ট্রাক ও পণ্যবাহী যানও স্রোতে ভেসে যায়।
পরে স্রোত স্যাফ্রুবেশি ও ভাটির দিকে ছড়িয়ে পড়লে নদীর দুই তীরের প্রায় সবকিছুই এর পথে পড়ে। মানুষ, গবাদিপশু, বাড়িঘর, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা ভেসে যায়। নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ৩৯১ জন বিদেশি এবং ৪৪ জন নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন।
বন্যায় নয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের নয়টি শাখা ধ্বংস হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে ১৯টি যান চলাচলযোগ্য সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার মহাসড়ক পানির স্রোতে ভেসে গেছে। বেসরকারি ও সরকারি সম্পদের মোট ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনো করা সম্ভব হয়নি।
নিখোঁজ মানুষের বিপুল সংখ্যা এবং ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা বিবেচনায় বুধবারের এই বন্যাকে নেপালের আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুর্যোগগুলোর একটি বলে মনে করছেন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা।
প্রকাশক : জুয়েল বড়ুয়া। সম্পাদক : দোলন বড়ুয়া, ই-মেইল : [email protected], যোগাযোগ : ০১৮১৯৩৩৯৫৬০
২০১৮ : সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।