
বোয়ালখালী প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে ব্যক্তিমালিকানাধীন ২০ শতক জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় ওই জমির ওপর বোয়ালখালী হাওলা উচ্চ বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। জমির মালিক অশোক ধরের করা মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের স্কুল কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও প্রধান শিক্ষক দীপক কান্তি চৌধুরীর নেতৃত্বে ৭-৮ জন লোক নির্মাণসামগ্রী নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রবেশ করে বাউন্ডারি নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এ ঘটনায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (দক্ষিণ), চট্টগ্রামে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় মামলা করেন অশোক ধর। মামলাটি আমলে নিয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বোয়ালখালী থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বোয়ালখালী উপজেলার ৬ নম্বর পোপাদিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পোপাদিয়া মৌজায় বি.এস. জরিপের ৩০১৭ নম্বর খতিয়ানের অধীনে বি.এস. নামজারি জমাভাগ ৩২৫৮ নম্বর খতিয়ানের ৬৭৬৯ নম্বর দাগে ২০ শতক জমি অশোক ধর ও তাঁর ভাই অলক ধর ক্রয় করেন। ২০১৮ সালের ১০ জানুয়ারি বোয়ালখালী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রিকৃত ১০৯ নম্বর কবলামূলে প্রশান্ত সেন গুপ্ত ও প্রদ্যুৎ সেন গুপ্তের কাছ থেকে জমিটি কেনা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে নামজারি জমাভাগের মাধ্যমে অশোক ধর জমিটির মালিকানা দাবি করেন।
বাদীর অভিযোগ, ওই জমির সীমানার সঙ্গে বোয়ালখালী হাওলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সীমানা রয়েছে এবং বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের অংশ হিসেবেই বিরোধপূর্ণ ২০ শতক জমির ওপর দেয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে স্কুল কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও প্রধান শিক্ষক দীপক কান্তি চৌধুরীসহ ৭-৮ জন লোক নির্মাণসামগ্রী নিয়ে জমিতে প্রবেশ করে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের চেষ্টা করেন বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে।
এ সময় জমির মালিক অশোক ধর নির্মাণকাজে বাধা দিলে তাঁকে হামলা, মামলা এবং জমি দখলের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে ওই ব্যক্তিরা সরে যান বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। পরে আদালতে মামলা দায়েরের পরও বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি নির্মাণের নামে ওই জমিতে দেয়াল নির্মাণের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অশোক ধর।
মামলার অভিযোগে অশোক ধর আরও দাবি করেন, জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধ আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় সেখানে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিরোধপূর্ণ জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষ যেন জোরপূর্বক দখল বা নির্মাণকাজে না যায়, এমন দাবি জানিয়েছেন তিনি।
প্রকাশক : জুয়েল বড়ুয়া। সম্পাদক : দোলন বড়ুয়া, ই-মেইল : [email protected], যোগাযোগ : ০১৮১৯৩৩৯৫৬০
২০১৮ : সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।