1. admin@sathikkhabor.com : JbSknUo :
অভিনয় - সঠিক খবর
শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন

অভিনয়

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৬৪ Time View
অভিনয়

“মিতা দাশ”

উহুঃ কি অসহ্য ব্যথা পেটে।আর সহ্য হচ্ছে না।অনেক কষ্ট। একটা প্রান চলে যাওয়া কি এতই সহজ? একটা নিষ্পাপ প্রান এভাবে শেষ হয়ে যাচ্ছে তার জন্য একটু কষ্ট তো পেতেই হবে প্রমিকে। এটাই তো শাস্তি প্রমির।চার মাসের এই ছোট্ট নিষ্পাপ প্রানটা যে প্রমির নাড়ীর সাথে জড়িয়ে।

উফঃ আর সহ্য করা যাচ্ছে না। প্রমি এবার চিৎকার করে উঠলো, ও মা গো মরে গেলাম। আর তো পারছি না। পুরো বিছানায় ছটফট করতে করতে বিছানার চাদর থেকে শুরু করে সব এলোমেলো করে ফেললো পা ছুড়তে ছুড়তে। প্রমির মা ঘরে ঢুকে গালি দিতে লাগলো, কি আরো বেশি বেশি করে মিলনের সাথে ঘুরতে যাও,বিশ্বাস করে নিজেকে বিলিয়ে দাও।এখন বোঝ মজা। লোকে জানলে ছিঃ ছিঃ করবে চুপ করে সহ্য করো আরেকটু।

মা আরো কত গালি দিচ্ছে, কিছু ই প্রমির কান দিয়ে ঢুকছে না আর। অসহ্য পেট ব্যথায় কাতরাতে কাতরাতে হঠাৎ মনে হলো পেট ফেটে কি যেন ছিড়ে নিচে গড়িয়ে পড়লো।

নিচে তাকিয়ে দেখলো প্রমি রক্তে তার জামা সালোয়ার লাল হয়ে উঠলো। তাড়াতাড়ি উঠে বাথরুমে ঢুকে শাওয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে রইলো তার নিচে।শীতের দিন বাইরে বেশ ঠান্ডা পড়ছে তবু সে ঠান্ডা পানির নিচে দাড়িয়ে আছে।প্রমির কোন ঠান্ডা লাগছে না।যেন তার শরীরে কোন হুশ নেই।বুক ভেঙে কান্না আসছে শুধু চার মাসের রক্তের সম্পর্কটাকে হারানোর জন্য। খুব বিশ্বাস করেছিলো মিলনকে।

ছয়মাস আগে বড় বোনের বিয়েতে দুলাভাইয়ের কেমন দূরের পরিচিত বন্ধু হয়ে বিয়েতে এসেছিলো মিলন।মিলন প্রমিকে দেখে সারাক্ষণ প্রমির পেছনে ঘুরঘুর করতে থাকে।প্রমি যেখানে যায়,সেখানেই মিলন গিয়ে হাজির।এভাবে পিছনে লেগে থাকে বিয়ের পরও।বারবার ফোন করে কলেজের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, সারাদিন রাত ম্যাসেজে ম্যাসেজে ব্যস্ত করে তোলে প্রমিকে।

প্রমি প্রথমে কয়েকদিন পাত্তা না দিলেও পরে মিলনের পাগলামি দেখে সে মিলনের প্রেমে পড়ে।মিলন নতুন মোবাইল কিনে দেয়।মেমোরি কার্ড কিনে দেয়, যখন তখন মোবাইলে রিসার্চ করে দেয়।হাতে করে কখনো নেইলপালিশ, কখনো চুড়ি, কখনো ঘড়ি ইত্যাদি দিতে থাকে।সারাদিন এতটা ব্যস্ত করে রাখতো যে, ২০ বছরের অনার্স পড়ুয়া প্রমি বুঝতেই পারেনি এগুলো মিলনের শুধু মাত্র ক্ষনিকের মোহ।

একমাস যেতে না যেতেই মিলন প্রমিকে কাছে টানতে থাকে।কথায় কথায় বলে তুমি ই তো আমার জীবন সাথী হবে,আমার স্ত্রী হয়ে পাশে থাকবে তাহলে এত ভয় পাচ্ছ কেন কাছে আসতে?

প্রমি এই প্রথম কারো প্রেমে পড়েছে।একটা সুন্দর স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে মিলনকে নিয়ে। প্রমির চোখে মনে স্বপ্নের ঘোর লাগা প্রেমের উন্মাদনা। মনে মনে মিলনকে নিয়ে ভালোবাসার স্বপ্নের বীজ বোনা চলছে সারাক্ষণ। প্রমির এই পরিবর্তন মায়ের চোখে পড়লো,প্রমিও মিলনের সব কথা মাকে জানালো।প্রমি আবার মাকে সব কথা বলে।মা ও মেয়ের বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিলো ছোট থেকে।শুধু জানাতে পারেনি একটু একটু করে মিলনের সাথে নিবিষ্ট হওয়ার মূহুর্তগুলো। ক্রমে মিলন তার উদ্দেশ্য হাসিল করে নিতে লাগলো ক্রমাগত। এখন ভালোবাসার কথা আসে না মুখে, এখন কাছে আসলেই আসে শারীরিক চাহিদার কথা।

ফর্সা, সুন্দর ডাগর ডাগর চোখ, বেগুনী রংয়ের ঠোঁট, চিকন সুন্দর স্বাস্থ্য সব মিলিয়ে অসাধারণ দেখতে প্রমি আস্তে আস্তে হারিয়ে ফেললো প্রতারক মিলনের কাছে নিজের সর্বস্ব।

যখন প্রথম শুনলো প্রমির মুখে দুইমাস হচ্ছে প্রমি মা হতে চলেছে এবার বিয়ে করতে হবে,অমনি কেমন যেন মিলনের চেহারা পাল্টাতে শুরু করলো।
এখন আর ফোন করেনা,ফোন করলে প্রমি ফোন ও ধরে না মিলন।সে এখন খুব ব্যস্ত। মিলনের দেখা করার সময় ও হয় না।এভাবে আরো কয়েকদিন পর মিলনের সীম গেলো বন্ধ হয়ে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রমি বুঝে গেলো সে মারাত্মক ধোঁকা খেয়েছে। কিন্তু সমস্যা হলো একটাই, পেটের এই নিষ্পাপ বাচ্চাটাকে নিয়ে কি করবে সে।শেষ পর্যন্ত সব খুলে বললো প্রমি তার মাকে।মা অবশ্য আগেই কিছুটা বুঝে গিয়েছিলো।প্রমির বোকামির জন্য তাকে খুব বকাবকি করতে লাগলো। ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দিলো প্রমিকে।আজ কিসের যেন ঔষধ খেতে দিলো।ঐ ঔষধটা খাওয়ার পর থেকে পেট ব্যথায় ছটফট করছিলো প্রমি।

এখন ফ্লোর রক্তে ভেসে যাচ্ছে দেখে প্রমি বুঝতে পারলো মা প্রমির ভেতরে থাকা ছোট্ট প্রানটাকে স্তব্ধ করে দিলো চিরতরে। একদিকে ঐ নিষ্পাপ প্রানটার জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে আর অন্য দিকে মনে হচ্ছিল মিলনের কু প্রবৃত্তির নোংরা, দূষিত জীবানু যেন বের হয়ে যাচ্ছে শরীর থেকে লাল রক্ত হয়ে।
বাইরে প্রমির মা চিৎকার করে ডাকছে ঠান্ডা লেগে যাবে বের হয়ে আয় এভাবে এতক্ষণ শাওয়ারের নিচে দাড়িয়ে থাকিস না।প্রমির বুকের ভেতরের কষ্টের ও দুঃখের চোখের পানি মিশে যাচ্ছে শাওয়ারের পানির সাথে। প্রমি তাকিয়ে আছে ফ্লোরে। ফ্লোর রক্তে ভেসে যাচ্ছে,——–?

বিষের চেয়েও বেশি বিষাক্ত হয়,
মানুষের মিথ্যে অভিনয়। কবি ও রেখক : মিতা দাশ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019
Design Customized By:Our IT Provider