1. admin@sathikkhabor.com : JbSknUo :
  2. 2015khokanctg@gmail.com : Rajib Khokan : Rajib Khokan
  3. ratanbarua67@gmail.com : Ratan Barua : Ratan Barua
  4. baruasangita145@gmail.com : Sangita Barua : Sangita Barua
শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ১০:০২ পূর্বাহ্ন

সাম্প্রদায়িক হামলায় বিচার কতদূর !

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২১ মার্চ, ২০২১
  • ৪০০ Time View

সঠিক খবর ডেস্ক : দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে তুচ্ছ ঘটনায়। রামুর ট্র্যাজিটির ঘা শুকানোর আগেই সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে ঘটে গেল আরেক ন্যক্কারজনক ঘটনা। এক হেফাজত নেতাকে সমালোচনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া নিয়ে একযোগে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় ওই গ্রামের ৮৮টি হিন্দু বাড়ি ও পাঁচটি মন্দিরে। তাদের হামলা থেকে রেহায় পাননি স্থানীয় কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাও।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথিত ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে এর আগে ২০১২ সালের ২৯-৩০ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের রামু, উখিয়া, টেকনাফের বৌদ্ধমন্দির ও বৌদ্ধপল্লিতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ১৫টি হিন্দু মন্দির ও হিন্দু সম্প্রদায়ের শতাধিক বসতঘরে হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ করা হয়। ভোলার বোরহানউদ্দিনে ২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর ‘তৌহিদি জনতা’র ব্যানারে স্থানীয় লোকজন সহিংসতার চেষ্টা করলে পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত হন। এ ঘটনার জেরে ভাঙচুর করা হয় একটি হিন্দু বাড়ি ও মন্দির। ধারাবাহিক এসব ঘটনার একটিরও আজ পর্যন্ত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণেই একের পর এক সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে বলে মনে করেন ভুক্তভোগীসহ সংশ্নিষ্টরা।

২০১২ সালের ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের রামু, উখিয়া ও টেকনাফের ঘটনা দেশে-বিদেশে নিন্দার ঝড় ওঠে। ফেসবুকে পবিত্র কোরআন ‘অবমাননা’র গুজব ছড়িয়ে ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করে সেদিন ১৯টি বৌদ্ধবিহার, ৪১টি বসতঘর পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয় আরও ৬টি বৌদ্ধবিহারসহ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অর্ধশত বসতঘরে। এতে কয়েকশ বছরের প্রাচীন প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন পুড়ে যায়। ওই ঘটনায় ১৯টি মামলা হয়। আজও একটিরও বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। তবে রামু থানায় সুধাংশু বড়ুয়া নামে এক ব্যক্তির করা মামলাটি দু’পক্ষের আপস মীমাংসার ভিত্তিতে প্রত্যাহার করা হয়।

আদালত সূত্র জানিয়েছে, বৌদ্ধপল্লিতে হামলার ঘটনায় দায়ের করা ১৯ মামলার এজাহারে নাম-ঠিকানা উল্লিখিত আসামি ছিল ৩৭৫ জন। রামু থানার আট মামলার এজাহারে মোট আসামি সাত হাজার ৮৭৫। এর মধ্যে ১১১ জনের নাম-ঠিকানা থাকলেও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল ৭৪ জনকে। সন্দেহভাজন হিসেবে আটক ছিল ১৩২ জন। উখিয়া থানার সাত মামলায় পাঁচ হাজার ৬২৪ আসামি থাকলেও গ্রেপ্তার হয় ১১৬ জন। টেকনাফ থানার দুটি মামলায় ৬৫৩ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছিল ৬৩ জন। কক্সবাজার সদর মডেল থানায় দুই মামলায় এক হাজার ৩০ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয় ৯৮ জনকে। কিন্তু বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতায় জামিন নিয়ে ধাপে ধাপে সবাই কারাগার থেকে বেরিয়ে যায়।

কক্সবাজার বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু বলেন, রামুর সহিংস ঘটনায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে যে আঘাত হেনেছিল তা অনেকটা দূর হয়েছে। ফিরে এসেছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। এরপরও বৌদ্ধদের মনে যে ক্ষত তৈরি হয়েছে, তা মুছে যায়নি। কারণ রামুর ঘটনার পর যে মামলাগুলো হয়েছে তার কোনোটা এখনও শেষ হয়নি। ন্যক্কারজনক ওই ঘটনার মূল হোতারা কেউ শাস্তি পায়নি। তিনি বলেন, ১৮টি মামলার বাদীই পুলিশ। পুলিশ কাকে আসামি করেছে, কাকে বাদ দিয়েছে, কিছুই বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা জানেন না। সেদিনের ঘটনায় যারা মিছিলের সামনের সারিতে ছিল, যারা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদের অনেকের নামই পুলিশের অভিযোগপত্রে নেই। উল্টো অনেক নিরপরাধ ব্যক্তিকে আটক করে এসব মামলা দুর্বল করে ফেলা হয়েছে। অনেক সাক্ষীর নাম-ঠিকানাও লেখা হয় ভুলভাবে। আবার বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বের কারণে অনেক সাক্ষী আদালতে গিয়ে সাক্ষ্য দিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।

রামু কেন্দ্রীয় সীমাবিহারের সাধারণ সম্পাদক রাজু বড়ূয়া বলেন, মধুপূর্ণিমার রাতে রামু, উখিয়ার ২০টি বৌদ্ধবিহার পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শনগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কেউ যেন আর এমন আঘাত করতে না পারে, এ জন্য রামুর ঘটনায় দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম বলেন, রামুর ঘটনার পর বিভিন্ন মামলায় ৯৯৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। করোনা পরিস্থিতি ও পুলিশ বাহিনীতে বদলিজনিত কারণে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। তবে মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, মামলার সাক্ষীরা আদালতে উপস্থিত হলে এবং যথাযথ সাক্ষ্য দিলে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দিয়ে বিচারকার্য সম্পন্ন করা যাবে।

এদিকে, রামু ট্র্যাজেডির ঘটনায় ফেসবুকে কোরআন ‘অবমাননা’র ছবি ট্যাগকারী সেই উত্তম বড়ূয়া কোথায়, কী অবস্থায় আছে কেউ জানে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দীর্ঘদিনেও তাকে আটক করতে পারেনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে রসরাজ দাস নামে এক মৎস্যজীবীর ফেসবুকে স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক হামলার চার বছর পার হলেও ঘটনার মূল রহস্য এখনও উদঘাটিত হয়নি। হিন্দুদের ১৫টি মন্দির, শতাধিক বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আটটি মামলা হয়। যদিও পরে দেখা গেছে, রসরাজের কোনো ফেসবুক আইডিই নেই। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে ওই পোস্ট আসলে কে দিয়েছিল, তার উত্তর এখনও অজানা রয়ে গেছে।

কয়েকটি মামলার এজহার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা সদরের মহাকালপাড়া গৌরমন্দির ভাঙচুরের ঘটনায় মন্দিরের পরিচালনা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নির্মল চৌধুরী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ১০০০-১২০০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এতে অভিযোগ করা হয়, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ও গাউছিয়া যুব সংগঠন এসব হামলার সঙ্গে জড়িত। ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর গৌরমন্দিরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ২২৮ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। অভিযোগপত্রে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, একাধিক আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতার নাম রয়েছে। তাদের অনেককেই গ্রেপ্তার করা হয়। তবে বর্তমানে সবাই জামিনে মুক্ত।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি লোকমান হোসেন বলেন, নানা ঘটনায় আমার কাছে ১৬টি মামলা রয়েছে। তবে রসরাজ দাসের মামলাটি নেই। অন্য কোনো সংস্থার কাছে থাকতে পারে। অবশ্য রসরাজ দাসের আইনজীবী অসীম কুমার বর্ধন দাবি করেছেন, রসরাজের মামলাটি ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই মামলায় পিবিআই রসরাজের ফেসবুক, মোবাইল ফোন ও মেমোরি কার্ডসংক্রান্ত ফরেনসিক প্রতিবেদনও দিয়েছে। এ প্রতিবেদনে রসরাজের কোনো সম্পৃক্ততা পায়নি পিবিআই।

এই আইনজীবী বলেন, রসরাজ দাসের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে করা মামলায় আরও তিন বছর আগে পুলিশ দু’জন সাক্ষীর ১৬১ ধারায় এবং আদালত একজন সাক্ষীর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নথিভুক্ত করেন। এতদিন পার হলেও রসরাজের মামলার প্রতিবেদন এখনও দেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, রসরাজ একজন মৎস্যজীবী এবং তিনি ফেসবুক চালাতেই পারেন না। সরকারি বিভিন্ন গোয়েন্দা রিপোর্টে প্রমাণিত যে, রসরাজ এ ঘটনায় জড়িত নন। তার পরও তার মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনও দেওয়া হয়নি। রসরাজকে প্রতি মাসেই আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে।

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া গ্রামের বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামে এক যুবকের ফেসবুক থেকে ইসলামের নবীকে (সা.) নিয়ে কটূক্তির একটি পোস্ট ভাইরাল হয়। ওই ঘটনায় থানায় জিডি হলে ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর শুভকে আটক করে পুলিশ। পরদিন ‘তৌহিদি জনতা’র ব্যানারে বোরহানউদ্দিন ঈদগাহ মাঠে মহানবীকে (সা.) কটূক্তির প্রতিবাদে সভা ডাকে স্থানীয় লোকজন। ওই সভায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। সভায় অংশ নেওয়া একটি মহলের উস্কানিতে পুলিশের সঙ্গে তাদের ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। এ সময় পুলিশের গুলিতে মাহাবুব পাটোয়ারী, শাহিন, মিজান ও মাহফুজ নামে চারজন মারা যান। সংঘর্ষে ১০ পুলিশ সদস্য আহত হন। সহিংসতার ওই ঘটনায় স্থানীয় একটি হিন্দু বাড়ি ও মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় বোরহানউদ্দিন থানায় তিনটি মামলা হয়।

ফেসবুকে ‘পোস্ট’ দেওয়া ওই যুবকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটির তদন্ত করছে পিবিআই। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বরিশাল পিবিআইর পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, তদন্তকাজ শেষ পর্যায়ে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলেই প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

মামলার আসামি শুভর আইনজীবী মনিরুল ইসলাম বলেন, বাপন দাস নামে কিশোরগঞ্জের ইটনার এক যুবক ফেসবুকে বিতর্কিত ওই পোস্টটি দিয়েছিল। বিপ্লব চন্দ্র শুভকে ফাঁসাতে বাপন তার ফেসবুক হ্যাকড করে এমন কাজ করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে আমার শুভসহ অন্য আসামিরা অভিযোগ থেকে রেহাই পাবেন।

অন্যদিকে পুলিশের সঙ্গে সহিংসতার পর বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৫ ওয়ার্ডের ভাওয়াল বাড়ি ও মন্দির ভাঙচুরের ঘটনায় হওয়া মামলাটিও বর্তমানে তদন্তাধীন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বোরহানউদ্দিন থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন অবশ্য এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি।

ঈদগাহ মাঠে পুলিশের সঙ্গে সহিংসতার ঘটনায় প্রায় পাঁচ হাজার জনের বিরুদ্ধে করা মামলাটি তদন্ত করছেন বোরহানউদ্দিন থানার ওসি মাজহারুল আমিন। ‘মামলাটি তদন্ত চলছে’- এর বেশি মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনিও।

ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানিয়েছেন, হ্যাকিংয়ের ঘটনার মূল আসামি কিশোরগঞ্জের বাপন দাস গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। তিনি ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। হ্যাকিংয়ের কাজে ব্যবহূত তার ল্যাপটপও উদ্ধার করা হয়েছে। এ মামলাটির তদন্তকাজ শেষ। যে কোনো সময় প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। আর বাকি দুটি মামলার তদন্ত শেষ হতে কিছুটা সময় লাগবে। সূত্র : সমকাল।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019
Design Customized By:Our IT Provider