1. admin@sathikkhabor.com : JbSknUo :
  2. 2015khokanctg@gmail.com : Rajib Khokan : Rajib Khokan
  3. ratanbarua67@gmail.com : Ratan Barua : Ratan Barua
  4. baruasangita145@gmail.com : Sangita Barua : Sangita Barua
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ১২:১০ অপরাহ্ন

হাত বাড়ালেই মেলে মাদক : নিত্যনতুন কৌশলে পাচারকারীরা

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৮ জুন, ২০২১
  • ৫৫০ Time View
মাদক

জুয়েল বড়ুয়া, সঠিক খবর : হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা, ফেন্সিডিল, গাঁজা, হেরোইনসহ বিদেশি মদ। যেন মাদকে ভাসছে পুরো চট্টগ্রাম। গ্রাম থেকে শুরু করে শহরের অলিগলি সর্বত্র হাত বাড়ালেই মেলে মাদক। মাদকের ভয়াল ছোবলে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে যুব সমাজ। মাদক নির্মূলে সরকারি- বেসরকারি ভাবে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও কোনো ভাবেই নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না। কিছুদিন আগে ‘থানায় মাদকের হাট’ শিরোনামে পত্রিকায় খবরও ছাপা হয়েছে। এমনকি দেশে ইয়াবা তৈরির কারখানারও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। নিত্য নতুন কৌশলে দেশের সীমান্ত দিয়ে হরহামেশাই দেশে প্রবেশ করছে মাদক। এক সময় গোপনে মাদক ব্যবসা চলতো। কিন্তু ইদানীং অনেকটা খোলামেলা ভাবেই মাদকের ব্যবসা চলছে। স্থানীয় প্রশাসনে নাকের ডগায় বসে মাদক ব্যবসা চললেও বেশির ভাগ সময়ই তাদের নীরবতায় দেখা যায়। ফলে বেড়েই চলছে মাদক কেনাবেচা আর সেবন।

বিভিন্ন জরিপ বলছে, দেশের সব শ্রেণির কম বেশি মানুষ এখন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বাদ যাচ্ছে না নারী-কিশোর ও শিশু। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ মাদক উৎপাদনকারী দেশ নয়। ৯৫ শতাংশ মাদক আসে বিদেশ থেকে। মাদক আগ্রাসন ঠেকাতে না পারলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে প্রতিবছর শুধু নেশার পেছনে খরচ হবে ৬০ হাজার কোটি টাকা। তাই মাদক চোরাচালানের সকল রুটে কঠোর নিরাপত্তা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি সরকারকে মাদক নির্মূলে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে।

সম্প্রতি সময়ে মাদকের বিস্তার বৃদ্ধি পাওয়ায় রাষ্ট্রের সব মহল থেকে উদ্বেগ উত্কণ্ঠা প্রকাশ করা হচ্ছিল। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদকের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। নগরীর বরিশাল কলোনিতে বন্দুকযুদ্ধে দুজন মাদক পাচারকারীর মৃত্যু হয়। এর আগে একই স্থানে র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গিয়েছিল বাইট্টা ফারুক। এছাড়া ২০১৫ সালের জুলাই মাসে পতেঙ্গা এলাকায় ইয়াবা পাচারকারী জাফর মাঝি ও আগস্ট মাসে জাহিদুল ইসলাম আলোর মৃত্যু হয়েছিল।

শীর্ষ ইয়াবা পাচারকারীদের কয়েকজন বন্দুকযুদ্ধে মারা যাওয়ার পরও চট্টগ্রামে মাদকের পাচার ও বিস্তার কমেনি। অধিকন্তু অভিনব পন্থায় মাদকপাচারীরা ইয়াবা পাচার করতে থাকে। সেই সঙ্গে নগরের বরিশাল কলোনি ঘিরে ফেন্সিডিল ও গাঁজার রমরমা ব্যবসা চলতে থাকে। বরিশাল কলোনি ছাড়াও নগরের ১৬ থানা এলাকায় শতাধিক মাদকের আখড়ায় নিয়মিত মাদক বিকিকিনি চলে। একটি আখড়া ধ্বংস করলে নতুন আস্তানা তৈরি করে কারবারিরা।

মাদকদ্রব্য ও নেশা প্রতিরোধ নিরোধ সংস্থা (মানস) সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে মাদক সেবনের সঙ্গে ৭০ লাখ মানুষ জড়িত। মানস বলছে, দেশে নারী মাদকাসক্তের সংখ্যাও এখন ৫ লাখ ছাড়িয়েছে।

মাদক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২০ সালের ভেতরে দেশে অন্তত এক কোটি লোক নেশায় আসক্ত হবে। বাংলাদেশের মাদক পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এখন ৬৫ লাখ মাদকাসক্ত। এছাড়া মাদকাসক্তদের মধ্যে ৮৪ ভাগ পুরুষ ও ১৬ ভাগ নারী। সে হিসেবে এদেশে ১৩ লাখের বেশি নারী মাদকের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। আর ৮৪ শতাংশ পুরুষ মাদকাসক্তের মধ্যে ৮০ শতাংশ যুবক। তাদের ৪৩ শতাংশ বেকার। ৫০ শতাংশ অপরাধের সঙ্গে জড়িত। সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তি থেকে শুরু করে নারী, শিশু ও কিশোররা মাদক ব্যবসায় জড়িত। এছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী দেশে আসক্তদের ৯০ ভাগ কিশোর ও তরুণ। তাদের শতকরা ৪৫ ভাগ বেকার এবং ৬৫ ভাগ আন্ডারগ্র্যাজুয়েট। আর উচ্চ শিক্ষিতের সংখ্যা ১৫ শতাংশ। এছাড়া আরেক জরিপে বলা হয়েছে, মাদকাসক্ত শিশুদের ড্রাগ গ্রহণ ও বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত ৪৪ শতাংশ পথশিশু, পিকেটিংয়ে ৩৫ শতাংশ, ছিনতাইয়ে ১২ শতাংশ, মানব পাচারের সহায়তার কাজে ১১ শতাংশ, দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের সহায়তাকারী হিসেবে ৫ শতাংশ ও অন্যান্য ভ্রাম্যমাণ অপরাধে জড়িত ২১ শতাংশ। পাশাপাশি বোমাবাজিসহ অন্যান্য সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ১৬ শতাংশ পথশিশু।মাদকের নেশায় বুঁদ হয়ে আছে স্কুল-কলেজগামি তরুণ-তরুণীদের একটি বড় অংশ। তাদের সঙ্গে বেকার ও শ্রমিক পর্যায়ের বেশ কিছু মাদকসেবী নিয়মিতভাবে মাদক গ্রহণ করছে। এর ফলে চট্টগ্রামের অবস্থা ভয়াবহ ধারণ করেছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাদক উদ্ধার অভিযানের চিত্র পর্যালোচনা করে এবং কয়েকটি মাদকের আখড়া ঘুরে মাদকের আগ্রাসনের ভয়াবহ চিত্র পাওয়া গেছে।

মাদক পাচারের রুট: বাংলাদেশ মাদক উৎপাদনকারী দেশ না হওয়াতে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে মাদকদ্রব্য প্রবেশ করে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ভৌগোলিকভাবে গোল্ডেন ট্রায়াংগাল (মিয়ানমার, লাউস ও থাইল্যান্ড), গোল্ডেন ক্রিসেন্ট (আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ইরান) ও গোল্ডেন ওয়েজ (নেপাল, ভুটান ও তিব্বত) এই তিন মাদক বলয়ের মাঝখানে বাংলাদেশের অবস্থান হওয়ায় মাদক ট্রাফিকিং রুট হিসেবে পরিচিত। দেশের ৩২ জেলা ও ১৩২টি উপজেলার সঙ্গে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্ত রয়েছে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী টেকনাফ উপজেলার নাফ নদীর জাদিরমুরা পয়েন্ট থেকে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার ইয়াবা পাচারের জন্য সর্বাধিক ব্যবহৃত ক্রসিং পয়েন্ট। মিয়ানমারের বাংলাদেশ সীমান্তে ৪৯টি ইয়াবার কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় তৈরি ইয়াবা দেশে পাচার করা হয়। পাচারকৃত ইয়াবার বেশির ভাগই নৌপথে নাফ নদ ও সমুদ্র উপকূলবর্তী কক্সবাজার জেলার মহেশখালী ও কুতুবদিয়া চ্যানেল, টেকনাফ ও উখিয়া উপকূল, চট্টগ্রাম উপকূল, পটুয়াখালী উপকূলীয় অঞ্চল দিয়ে প্রবেশ করে। মাছ ধরার নৌকা, যাত্রীবাহী নৌকা, জাহাজ দিয়ে কৌশলে ইয়াবা আনা হয়। টেকনাফ ও উখিয়া হয়ে পাচারকৃত ইয়াবা বাংলাদেশে প্রবেশ করার পর কক্সবাজার-টেকনাফ-উখিয়া সড়ক ও মেরিন ড্রাইভ এলজিইডি সড়ক দিয়ে ইয়াবা পাচার হয়। ইয়াবা ব্যবসার গডফাদার ও সীমান্তের আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের যোগসাজশে দেশে ইয়াবার চালান আনা হচ্ছে।

নগরীতে বসবাসরত বেশ কয়েজ জন অভিভাবকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মাদকের সহজলভ্যতার কারণে চট্টগ্রাম নগরীর প্রায় প্রতিটি থানা এলাকায় প্রায় ৪০ শতাংশ তরুণ-তরুণী মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। দিন দিন এই সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এর পরও মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। মাঝেমধ্যে দু-একজন খুচরা ব্যবসায়ীকে আটক করা হলেও থানায় নিয়ে যাওয়ার পথেই তারা ছাড়া পেয়ে যান। আর বড় ব্যবসায়ীরা সব সময় থাকেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

অভিযোগ রয়েছে, চট্টগ্রামের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা যারা নিয়মিত ডিউটি পালন করেন তাদের মধ্যে কিছু অসৎ কর্মকর্তা রয়েছেন তারা প্রাইভেট গাড়ি করে নগরীর চিহ্নিত মাদক স্পোর্টস ঘুরে ঘুরে টাকা হাতিয়ে নেয়ার পাঁয়তারায় থাকেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মেট্রো এর উপ- অঞ্চলের উপ-পরিচালক রাসেদুজ্জামান বলেন, মাদক নির্মূলে ডিএনসির তৎপরতা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। প্রতিদিনই ডিএনসির অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার হচ্ছে। প্রতিমাসে প্রায় এক’শটির মতো মামলা হচ্ছে। উদ্ধার হচ্ছে মাদকদ্রব্য। গত বছরও প্রায় সাত লাখের বেশি ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশ র‌্যাবও মাদক কারবারে জড়িতদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

তিনি আরো বলেন, মাদক নির্মূলের শাপাশি মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করে শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে। কিন্তু আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে অনেক মাদক ব্যবসায়ী জামিনে বের হয়ে যায়। এছাড়া বরিশাল কলোনিসহ নগরীর মাদকের আখড়াগুলোতে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালায়। অনেক আখড়া গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মাদকসেবীরাও আর বসে নেই। তাই তারাও নতুন নতুন আখড়া করছে। এ কারণে যেখানেই আখড়ার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। পাচারকারীরা নিত্য নতুন কৌশলের মাধ্যমে পাচার করছে। তিনি বলেন, শুধু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা দুরুহ। মাদক নিয়ন্ত্রণে সামাজিক প্রতিরোধ জোরদার করতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019
Design Customized By:Our IT Provider