1. admin@sathikkhabor.com : JbSknUo :
  2. 2015khokanctg@gmail.com : Rajib Khokan : Rajib Khokan
  3. ratanbarua67@gmail.com : Ratan Barua : Ratan Barua
  4. baruasangita145@gmail.com : Sangita Barua : Sangita Barua
বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৪৪ অপরাহ্ন

রাউজানে যত্রতত্র নিয়ম নীতি ছাড়া গড়ে উঠেছে বেকারী কারখানা : প্রশাসন নীরব!

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৯ জুন, ২০২১
  • ৪৮৪ Time View

রাউজান প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের উপজেলা রাউজানে যত্রতত্র নিয়ম নীতি ছাড়া গড়ে উঠেছে বেকারী কারখানা। এছাড়া উপজেলাতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে প্রায় হাফ ডজন বেকারী কারখানা। অধিকাংশ বেকারী গুলোতে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেকারী খাবার তৈরী হচ্ছে।

উৎপাদিত খাদ্যের মান প্রণয়ন এবং গুণগতমান ও পরিমাপ নিশ্চিতকরণ কোনো ব্যবস্থা নেই। উৎপাদিত খাবারে দেশের মান নিয়ন্ত্রণকারী একমাত্র প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন (বিএসটিআই) এর অনুমোদনসহ নেই উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ। খবর রাখেন না পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সরজমিনে গেলে জানা যায়, রাউজান উপজেলার বিভিন্ন বাজারে গড়ে উঠেছে প্রায় হাফ ডজন বেকারী কারখানা। কারখানা গুলো নিয়ম নীতি না মেনে স্যাঁতস্যাঁতে নোংরা পরিবেশে ভেজাল ও নিন্মমানের উপকরণ দিয়ে অবাধে তৈরী করছে বেকারী খাবার। অভিযোগ রয়েছে বেকারী খাবার তৈরী করতে ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ, কেমিক্যাল ও নিন্মমানের পাম তেল ব্যবহার করা হচ্ছে। শ্রমিকরা বিশেষ পোশাক ছাড়া খালি পায়ে খাবার তৈরী করছেন।

নোংরা ও অপরিস্কার কড়াইগুলোতে আটা ময়দা প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। ডালডা দিয়ে তৈরী করা ক্রিম রাখা পাত্রগুলোতে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছি ভন ভন করছে। উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ন তারিখ ছাড়াই বাহারি মোড়কে বনরুটি, পাউরুটি, কেক, বিস্কুটসহ বিভিন্ন ধরনের বেকারী ফাস্টফুড খাবার উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছে।

এছাড়া অধিকাংশ বেকারী নেই কোন গ্যাস সংযোগ। যার ফলে বেকারীগুলো গাছের লাকড়ী ব্যবহার করে বন উজার করে দিচ্ছে। প্রতিদিন শত শত মণ লাকড়ী ব্যবহার হচ্ছে এসব বেকারীতে। বেকারীর কোলো ধোঁয়ায় আশেপাশের বসবাসরত স্থানীয় বাসীন্দাদের শ্বাসকষ্ট, হাফাঁনি, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের ক্যানসারসহ নানান জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছে।

অধিকাংশ বেকারি মালিকের বিরুদ্ধে বিকল্প বেকারি মোড়কে নিন্মমানের খাদ্য সামগ্রী উৎপাদন করে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পণ্য বাজারজাত করার অভিযোগ রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন চায়ের স্টলে গিয়ে দেখা যায়, একাধিক পলি প্যাকে ঝুঁলছে পাউরুটি, ক্রীমরোল, কেক, পেটিস, সিঙ্গাড়াসহ অন্যান্য বেকারী খাবার। মোড়কের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণ লেখা থাকলেও কত তারিখে উৎপাদন হয়েছে বা মেয়াদ কবে শেষ হবে তার কোনো উল্লেখ নেই।

এদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ভেজাল কেমিক্যাল ও নিন্মমানের উপকরণ দিয়ে তৈরী করা এসব খাবার স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্বক ঝুঁকি।

কয়েক জন বেকারী শ্রমিক জানান, দিনের বেলার পাশাপাশি তারা রাতে পণ্য উৎপাদন করেন। ফজরের আগেই পণ্য উৎপাদন শেষ হয়ে যায়। রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও পুলিশের ঝাঁমেলা কম বলেই পণ্য উৎপাদন রাতেই শেষ করা হয়। তারা আরও বলেন মাঝে মধ্যে স্যানিটারি অফিসার এসে ঘুরে চলে যায়।

স্থানীয় এক চা বিক্রেতা বলেন, আমরা গরীব মানুষ, চা-পান বিক্রি করে সংসার চালাই। উৎপাদনের তারিখ দেখার সময় নাই। ক্রেতারা তো আর এসব জিজ্ঞেস করে না।

সম্প্রতি সময়ে রাউজানে ইজি ফুড নামে একটি বিস্কুট কারখানাকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জোনায়েদ কবির সোহাগ ভ্রাম্যমান আদালতের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। দীর্ঘ দিন ধরে বিএসটিআই অনুমোদন বিহীন কারখানাটি বিভিন্ন রকম বিস্কুট, কেক, পাউরুটি তৈয়ারী করে পাইকারী ভাবে বাজারজাত করে আসছিল তারা। এছাড়া তৈয়ারী করা বেকারী নাস্তায় কাপড়ে রং ব্যবহার, নোংড়া পরিবেশ, অস্বাস্থ্যকর খাওয়া তৈয়ারীর অপরাধে ইজি ফুডের মালিক মোহাম্মদ গোলাপকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এসময় জব্দ করা হয় নোংড়া মাখন, বিভিন্ন প্রকৃতির রং, মেয়াদ উর্ত্তীন্ন বিস্কুট। পরে ভ্রাম্যমান আদালত জব্দ করা মালামাল ধংস করা হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এসব নিম্নমানের তৈরি করা বেকারীর বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাবার উপজেলার বিভিন্নহাটে খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ভেজাল ও নিম্ন মানের বিস্কুট। বিস্কুট গুলো ঠিক কোন পরিবেশে কি ভাবে তৈরি হচ্ছে তা সাধারন মানুষের জানার বিষয় হয়নি। খোলা বাজারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অনুমোদনহীন ও স্বাস্থ্যর জন্য ক্ষতিকর এসব বিস্কুট অসচেতন গ্রাহকেরাই কিনে থাকেন, পাশাপাশি দেখাযায় এসব বিস্কুট জানা শুনা সচেতন ক্রেতাসাধারণও ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে নিম্ন মানের এসব বিস্কুট। বিস্কুট গুলো দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি সুস্বাদু, এই সুস্বাদু বিস্কুট গুলো তৈরি করা হচ্ছে নিম্ন মানের তৈল ব্যবহার করেও।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলার সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান জানান, নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘদিন রাউজানে অভিযান পরিচালনা হয়নি লোকবলের অভাবে। তবে খুব শীঘ্রই এসব অবৈধ বেকারী এবং তাদের তৈরিকৃত ভেজাল দ্রব্যের উপর রাউজানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

উপজেলা প্রাশাসন সূত্র মতে, বেকারী জাতীয় খাদ্য প্রস্তুতকারী কারখানায় অভিযান পরিচালনায় বিএসটিআই এর অনুমোদন বিহীন, কোন ধরনের ছাড়পত্র ছাড়া কারখানায় অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে পঁচা ডিম পোড়াতেল, নকল ডালডা, মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট পুনরায় গুড়ো করে তৈরি করা হচ্ছে কেক, বিস্কুটসহ নানা ধরনের খাদ্য।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019
Design Customized By:Our IT Provider