1. admin@sathikkhabor.com : JbSknUo :
  2. 2015khokanctg@gmail.com : Rajib Khokan : Rajib Khokan
  3. ratanbarua67@gmail.com : Ratan Barua : Ratan Barua
  4. baruasangita145@gmail.com : Sangita Barua : Sangita Barua
সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রামে বেপরোয়া মদ ব্যবসায়ীরা, মানছেন না লাইস্যান্সের শর্ত

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৪ এপ্রিল, ২০২২
  • ১৫১৬ Time View

জুয়েল বড়ুয়া, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে প্রতিযোগীতামুলকভাবে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে লাইসেন্সধারী মদ ব্যবসায়ীরা। মাদক ক্রয় বিক্রয় মানছে না লাইসেন্স এর শর্ত। যে কেউ টাকা পরিশোধ করলেই হাতে তুলে দিচ্ছে দেশী-বিদেশী মদের বোতল আর এই মাদক সহজত হওয়ায় নেশার দিকে ঝুঁকে পড়ছে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কম বয়সী পেশাজীবীরাও। ফলে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অপরাধের মাত্রাও। এসব দেখবালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নেই কোন তৎপরতা। অভিযোগ রয়েছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা অনৈতিক সুবিধা আদায়ের ফলে তারাই এসমস্ত পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো উপ-অঞ্চল অফিসের মাধ্যমে জানা যায়, ২০২১-২০২২ অর্থবছরের জন্য চট্টগ্রামে দেশি মদের পারমিটের সংখ্যা ৩ হাজার ৭শ ৫৭টি এর মুসলিম ৩০১ ও অমুসলিম ৩৪২৬টি আর বিলেতি মদের পারমিটের সংখ্যা ১ হাজার ৬৪৯টি এর মধ্যে মুসলিম ৭৯০ অমুসলিম ৮৫৯টি। এসব পারমিটের বিপরীতে লাইসেন্সধারী দেশী মদের দোকান রয়েছে ৪টি এগুলো হচ্ছে কতোয়ালী থানা এলাকার ফিসারী ঘাট ও রিয়াজ উদ্দিন বাজারের দেশি মদের দোকান, চান্দগাঁও থানার কাপ্তাই রাস্তার মাথার সাধন বাবুর দেশি মদের দোকান ও ইপিজেড থানার অন্তর্গত মাইলের মাথায় অবস্থিত ছায়া রানী নাগ মালিকানাধীন দেশি মদের দোকান। এছাড়াও দেশি বিদেশি মদের ব্যবসার লাইসেন্স রয়েছে ফিরিঙ্গী বাজার পি সেন সাত তলা এলাকায় কাজী এন্ড কোং, আলকরনের ময়নামতি স্টোর, হাজারী গণির রেটিনা এড কোং, রিয়াজ উদ্দিন বাজার পাখি গলির পপুলার এজেন্সি, পুরাতন নীকার মার্কেটিং এন্ড কোং, দেওয়ান হাটের শাহাজাদা, চৌমুহনীর বনানী ইন্টারন্যাশনাল, স্টেশন রোডের রেলওয়ে মেন্স স্টোর। বারগুলোর মধ্যে রয়েছে সদরঘাট কালি বাড়ির হোটেল শাহজাহান, আগ্রাবাদের হোটেল সেন্টমার্টিন, হোটেল আগ্রাবাদ, জিইসি এলাকায় হোটেল পেনিনসুলা, ওআর নিজাম রোডে হোটেল ওয়েলপার্ক রেসিডেন্স, স্টেশন রোডের পর্যটনবার, জুবিলী রোডের হোটেল টাওয়ার ইন,  লির্বাটি টাওয়ারে নাইট শেডো ক্লাব লিমিটেড, পতেঙ্গা এলাকায় বোট ক্লাব, রেলওয়ে মেশ বার, সদর ঘাটের হংকং বার, কাজির দেউরী এলাকায় চিটাগাং ক্লাব ও হোটেল রেডিসন ব্লু, স্টেশন রোড এলাকায় পর্যটন কর্পোরেশনের হোটেল সৈকত, ডরবলমুরিং থানা এলাকার ডিপি রোডের ইস্টার্ন হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট, জামালখানের সিটি অফিসার্স ক্লাব।

মাদকদ্রব্য নিয়ন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, খাওয়ার পারমিট ব্যতিত কোন ক্রেতার নিকট মদ বিক্রি  করতে পারবে না মর্মে শর্ত সাপেক্ষে মাদকের লাইসেন্স প্রদান করে থাকে আর মদ খাওয়ার পারমিটের প্রধান শর্ত হচ্ছে অমুসলিম হওয়া তবে অসুস্থতাজনিত কারণে যদি কাউকে অষুধ হিসেবে ব্যবহার করতে হয় সেক্ষেত্রে মিনিমাম সহযোগী অধ্যাপক সমমানের চিকিৎসকের চিকিৎসাপত্র থাকলে পারমিট পাওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু সমস্ত লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীদের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে ক্রেতার বেশে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এই শর্ত মানছে না কেউই। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শর্ত করে দেদারছে বিক্রি করছে মদ। পারমিট আছে বা নাই এমন কোন প্রশ্নও করছেনা কেউ। হোক না যে কোন ব্যক্তি বা অপ্রাপ্তবয়স্ক হলেও টাকার বিনিময়ে তাদের হাতে তুলে দিচ্ছে মদের বোতল। আর এই মদ পান করে এরা হয়ে উঠছে নিয়মিত মাদকসেবী আর নেশার ঘোরে জড়িয়ে পড়ছে নানা রকম অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে, ঘটাচ্ছে মারামারি খুনখারাবি ও ধর্ষণের মতো জঘন্য কাজ। অনেক সময় নেশার টাকার যোগান দিতে পরিবারের সাথে করছে খারাপ আচরন করছে চুরি ডাকাভি। এক পর্যায়ে জেল জুলুমের স্বীকার হয়ে অকালেই বরবাদ হয়ে যাচ্ছে লাখো লাখো ফুলের মতো প্রাণ।

শুধু তাই নয় পারমিটের সাথে বিক্রয় হিসাব মেলানোর জন্য বৈধভাবে কেনা মদের চেয়ে অবৈধ ও চোরা পথে কেনা মদই বেশিরভাগ বিক্রি করে থাকে বলে বিশ্বস্ত সুত্রে জানা গেছে। আর কাস্টমারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিলেও নিয়মিত ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে রাষ্ট্রের ক্ষতি করছে চরমভাবে। তবে এসব দেখবালের জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে কর্মকর্তার তদারকি থাকার কথা থাকলেও তা যেন কাগজে কলমেই থেকে যায়। যার কারনে তেমন কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব ব্যবসার সাথে জড়িত কয়েকজনের সাথে কথা
বলে জানা গেছে, সম্পূর্ণ আইন মেনে ব্যবসা করলেও এসব দেখবালের দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিয়মিত কোটা দিতে হয় আর না দিলে অহেতুক ঝামেলা পোহাতে হয় তাই কিছু অন্যায় করে হলেও তাদেরকে ঠিক রাখতে হয়।

এব্যপারে জানতে চাইলে মাদক  নিয়ন্ত্র অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মজিবুর রহমান পাটোয়ারী সঠিক খবরকে বলেন, লাইস্যান্সের শর্ত না মেনে যারা মদ বিক্রি করছে এ ধরণের অভিযোগ পেলেই আমরা অভিযান পরিচালনা করি। এর মধ্যেই স্টেশন রোডে হোটেল পর্যটন বারে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। যারা বেপরোয়া ভাবে মদ বিক্রি করছে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। অনিয়ম পেলেই অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নিব।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019
Design Customized By:Our IT Provider