1. admin@sathikkhabor.com : JbSknUo :
  2. 2015khohanctg@gmail.com : Khokan Mazumder : Khokan Mazumder
  3. baruasangita145@gmail.com : Sangita Barua : Sangita Barua
শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ০২:০৩ পূর্বাহ্ন

অলি-বুজুর্গ ও সুফি সাধক গউছে জামান হযরত মাওলানা সৈয়দ আজিজুর রহমান শাহ আলহাসানী আল মাইজভান্ডারী (রহ.) চন্দ্র -সুর্য রশ্মির চাইতেও আলোকিত

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২ আগস্ট, ২০২২
  • ১৭৫ Time View

জুয়েল বড়ুয়া : অলি, সুফি, পীর-ফকির-দরবেশ, গাউস-কুতুব ও সাধক হিসেবে যারা আমাদের সমাজে পরিচিত; মূলত তাদের মাধ্যমেই সুদূর অতীতকাল থেকে বাংলা ভূখণ্ডে শান্তির ধর্ম ইসলামের প্রচার-প্রসার ও বিস্তৃতির ধারা অব্যাহত। সুফিবাদের মহান দীক্ষায় উজ্জীবিত হয়েই তারা আমাদের এতদঞ্চলে ইসলামের শান্তির সুবাতাস বইতে দিকপালের মতো অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। উদার, সহনশীল ও অসাম্প্রদায়িক ইসলামের সুফিবাদী ভাবধারাকে সত্যিকার অর্থে কাজে লাগিয়ে বাংলা ভূখণ্ডে প্রথিতযশা অনেক মনীষী এক ব্যতিক্রমী ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম সুফি সাধক রাউজানের ১২ নং উরকিরচর ইউনিয়নের মিরাপড়া পাড়ায় জন্ম নেয়া অলি-বুজুর্গ ও সুফি সাধক গউছে জামান হযরত মাওলানা সৈয়দ আজিজুর রহমান শাহ আলহাসানী আল মাইজভান্ডারী (রহ.)।

বার আউলিয়ার স্মৃতিধন্য চট্টগ্রামের অন্যতম আধ্যত্মিক সাধক গউছে জামান হযরত শাহ সুফি মাওলানা সৈয়দ আজিজুর রহমান শাহ আলহাসানী আল মাইজভান্ডারী (রহ.) প্রকাশ শাহ সাহেব কেবলা। তিনি চট্টগ্রাম রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের মিরাপাড়া গ্রামে ১৮৫৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছৈয়দ মকবুল আলী ও মাতার নাম ছৈয়দা ছৈয়দুন্নেছা, তিনি পিতার দিক দিয়ে হাসানী বংশোদ্ভূত তাঁর পূর্ব পুরুষ ছিলেন হযরত ছৈয়দ শাহ বখতেয়ার মাহি সাওয়ার। যিনি ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে সূদুর বাগদাদ থেকে মাছের পিঠে করে ভারত বর্ষ হয়ে চট্টগ্রাম আগমন করেন। শাহ সাহেব কেবলা মাতার দিক দিয়ে ছৈয়দ আলফা হোছাইনীর বংশধর। মাতা ও পিতা উভয় দিক দিয়ে তিনি হাসানী ও হোসাইনী বংশোদ্ভূত। ছোট বেলা থেকে তিনি অত্যন্ত বিনয়ী ও মেধাবী ছিলেন। গ্রাম্য মক্তবে প্রথমে পড়ালেখা শেষ করে চট্টগ্রাম মোহছেনিয়া আলিয়া মাদ্রাসা থেকে উচ্চতর ডিগ্রী লাভ করেন এবং আরো উচ্চতর ডিগ্রী লাভ করার জন্য তিনি কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে অধ্যয়ন করে গোল্ডমেডেলসহ সর্বোচ্চ ডিগ্রী লাভ করেন। তৎকালীন মাওলানা ছৈয়দ নঈম উদ্দিন মুরাদাবাদী (রহ.) এবং বেনারসী পীর সাহেব তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করতেন এবং তাঁকে সম্মানের সাথে দেখতেন। তিনি ধর্মীয় জ্ঞানার্জনের জন্য বিভিন্ন দেশ সফর করেন। বিশেষ করে ভারত, বার্মা, পাকিস্তান, সমরখন্দ, বোখরা, রাশিয়া সফর করেন। সেখানে বিভিন্ন আওলিয়াকেরামদের সাথে তাঁর সম্পর্ক হয়। হযরত ছৈয়দ আহমদ ছিরিকোটি (রহ.) ও ছৈয়দ আবদুল হামিদ বোগদাদী (রহ) সাথে তাঁর ঘনিষ্ট সম্পর্ক ও হৃদতা ছিল। তিনি বাল্যকাল থেকে অত্যন্ত ইবাদতী কোরআন তেলোয়াত, দৈনন্দিন নামাজ, তাহাজ্জুদ ও বেশী বেশী নফল নামাজে সময় ব্যয় করতেন। আইয়ামে বীজের রোজা রাখতেন এবং কঠোর রেয়াজত সাধনা করতেন। বস্তুত তিনি ছিলেন রাসুল পাক (সা.) এর হাকীকী নায়েব। তিনি কর্মজীবনে মাদ্রাসা শিক্ষকতা এবং ধর্মীয় হেদায়তমূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন। তিনি সবসময় খোদাবিভোর অবস্থায় থাকতেন। তিনি উপমহাদেশের প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক সম্রাট মাইজভান্ডারী তরিকার প্রবর্তক। গাউছুলআজম মাওলানা ছৈয়দ আহমদউল্লাহ মাইজভান্ডারী (কঃ) এর হাতে বাইয়াত (শীষ্যত্ব) গ্রহণ করেন এবং গাউছুলআজম হযরত কেবলা নিজ হাতে তাঁকে এক গ্লাস শরবত খাইয়ে দেন এবং কালাম করেন। “বেটা ফির দোবারা ইঁহা আনেকি জরুরত নেহি উধার রেহেনেকি হোজায়গা- মাই দোয়া কররাহাহু অর্থাৎ এখানে তোমাকে আর ২য় বার আসতে হবে না, ওখানে থেকে স্মরণ করলে হবে, আমি দোয়া করছি।”

উল্লেখ্য, তিনিই একমাত্র খলিফা যাকে হযরত কেবলা নিষকরা কালাম করেন। যেজন্য শাহ সাহেব কেবলা অন্যান্য খলিয়াদের ছাইতে ব্যাতিক্রম ছিলেন। অর্থাৎ অন্যান্য খলিফারা যেভাবে সবসময় আসাযাওয়া করতেন তিনি তার পীর সাহেবের হুকুম মত সেভাবে সবসময় যাওয়া আসা করতেন না। অনেক জ্ঞানী গুণী ব্যক্তি তাঁর প্রশংসা করে গেছেন। বিশেষ করে আল্লামা গাজী শেরে বাংলা (রহ.) তাঁর লিখিত দেওয়ানে আজিজ কিতাবে শাহ সাহেব কেবলা সম্পর্কে কচিদা লেখেন। তিনি সেখানে শাহ সাহেব কেবলাকে পীরে মঁগা পীরে ফায়াল ও অনেক বিশেষণে বিশেষিত করেন। আল্লামা জালাল উদ্দিন রুমির মতে পীরে মঁগা পীরে ফায়াল ঐ সমস্ত আওলিয়াদের শানে ব্যবহার করা হয়, যাহারা আধ্যত্মিক স্তরের সর্বোচ্চ মকামে পৌঁছে আল্লাহর কুদরতি জাতে নিজের অস্তিত্বকে বিলীন করে আল্লাহর সাথে অভিন্ন অবস্থায় বিরাজমান থাকে। তখন তাঁদের জবানে যেটা বের হয় আল্লাহ সেটা সাথে সাথে করে দেন।
অতএব, তিনি কত উঁচু মকামের ওলি তাহা লক্ষণীয়। যার দরুন তাঁর এই নিয়ামতের সুধা ও করুণা লাভের আশায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্তবৃন্দ প্রতিবছর ৮ মাঘ, ২১ জানুয়ারী তাঁর ওরশ শরীফে হাজির হওয়ার জন্য পতঙ্গের মত ছুটে আসে। তাঁহার এই পবিত্র জীবন অসংখ্য কারামতে ভরপুর।
প্রচার আছে- তিনি হুক্কা সেবন কালে কয়লার যে টিক্কা ব্যবহার করতেন তা খাঁটি স্বর্ণে পরিণত হত। যেরূপ খাজা গরীবে নেওয়াজ সাধারণ মাটিকে স্বর্ণে পরিণত করেছিলেন।
তিনি তাদের বাড়ীর বর্তমান তার মাজারের সামনের পুকুরে মাঘ মাসের প্রচন্ড শীতে ডুব দিয়ে উধাও হয়ে যায়। তার পিতা মাতা এবং এলাকার লোকজন পুকুরের চারিদিকে তথা সারা জায়গায় কোথাও তাহাকে খুঁজে পায়নি। তাই নিরাশ হয়ে তার পিতা মাতা কান্নাকাটি করে ছেলে মরে গেছে বা কোথাও হারিয়ে গেছে ভেবে অস্থির। আশ্চর্যের বিষয় দেড় বছর পর ঐ একই জায়গায় তার পিতা গোসল করতে গেলে হঠাৎ করে পানি থেকে উঠে শাহ সাহেব কেবলা স্বীয় পিতাকে জড়িয়ে ধরেন এবং তার পিতা আশ্চর্যান্বিত হয়ে তাকে জিজ্ঞেস করেন, বাবা তুমি এই দেড় বছর পর্যন্ত কোথায় ছিলে? তখন তিনি বলেন, বাবা আপনি আমাকে এখানে কিভাবে পাবেন। আমি তো পানি জগতের সম্রাট খাজা খিজির (আ.) এর সহিত প্রশান্ত মহাসাগরের তলায়। তিনি আমাকে আল্লাহর বাতেনী জ্ঞান দেয়ার জন্য এই পুকুর থেকে সেখানে নিয়ে যান। এই ঘটনার পর এলাকার শত শত লোকজন এসে তার চারিদিকে ভীড় করতে লাগলো এবং সবাই তাহার এই কারামত বুঝতে পেরে তার কদমে লুঠিয়ে পড়ে সম্মান জানাতে লাগলো।

আল্লাহ আমাদেরকে এই সুফি সাধককে বুঝার ও অনুসরণ করার তৌফিক দিন। আমিন।

তিনি ১৯৪৮ সালে ৩ আষাঢ় ১৭ জুন লক্ষ লক্ষ ভক্তবৃন্দদেরকে শোক সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে এই ইহলোক ত্যাগ করেন। ইহলোক ত্যাগ করলেও হযরত মাওলানা সৈয়দ আজিজুর রহমান শাহ আলহাসানী আল মাইজভান্ডারী (রহ.) ভক্তদের মাঝে বেঁচে আছেন। আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019
Design Customized By:Our IT Provider