1. admin@sathikkhabor.com : JbSknUo :
  2. 2015khohanctg@gmail.com : Khokan Mazumder : Khokan Mazumder
  3. baruasangita145@gmail.com : Sangita Barua : Sangita Barua
সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩, ১১:০১ পূর্বাহ্ন

বড় দুই দলের নজর ধর্মভিত্তিক তিন শক্তির দিকে

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৭ নভেম্বর, ২০২২
  • ৬০ Time View

সঠিক খবর ডেস্ক : দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বড় দুই দলের নজর এখন ধর্মভিত্তিক তিন ‘শক্তির’ দিকে। এ তিন শক্তি হচ্ছে—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, চরমোনাই পীরের বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। তাদের নিয়ে এরই মধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানামুখী তৎপরতা শুরু হয়েছে। সরকারবিরোধী আন্দোলন ও নির্বাচনে যে কোনো উপায়ে এ শক্তিগুলোকে পাশে চায় বিএনপি। অন্যদিকে যে কোনো কৌশলে ধর্মভিত্তিক শক্তিগুলোকে বিএনপির কাছ থেকে দূরে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ইসলাম ধর্মভিত্তিক সক্রিয় অসংখ্য রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন ও হেফাজতে ইসলামের সারা দেশে সাংগঠনিক অবস্থান রয়েছে। এ কারণে অন্যান্য দলের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এই তিন শক্তিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। অবশ্য ধর্মভিত্তিক এই তিন দলের মধ্যকার আদর্শিক দূরত্ব বিবেচনা রেখেই বড় দুই দল তাদের কৌশল নির্ধারণ করছে। পাশাপাশি নিজেদের রাজনৈতিক আদর্শ যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। আদর্শিক জোটের শরিকদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি এড়ানোর বিষয়টিও রাখা হচ্ছে মাথায়।

ঐতিহাসিকভাবেই দেশের ধর্মভিত্তিক দল ও গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ছিল। বারবার সে সুযোগটি কাজে লাগিয়েছে বিএনপি। ১৯৯১ সালে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করে তারা ক্ষমতায় আসে। তবে এর পরই এই দুই দলের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জামায়াতের সঙ্গে কৌশলগত ঐক্য গড়ে আওয়ামী লীগ। যুগপৎ আন্দোলনে বিএনপি সরকারের পতন ঘটিয়ে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। তবে ওই নির্বাচনে জামায়াত মাত্র দুটি আসনে জয়লাভ করে। এর পরই দলটি আবারও বিএনপির দিকে ঝুঁকে পড়ে।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট মূলত বিএনপি-জামায়াত জোট হিসেবেই পরিচিতি লাভ করে। ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে জোটবদ্ধভাবেই সরকার গঠন করে। সেবার বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জামায়াতের শীর্ষ দুই নেতাকে মন্ত্রিসভায় রাখা হয়।

বিএনপি-জামায়াতের জোট বহাল থাকলেও ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে। এর পরই মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকার জন্য জামায়াত নেতাদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের  ট্রাইব্যুনালের রায় অনুসারে দলটির তৎকালীন আমির মতিউর রহমান নিজামী ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুজাহিদসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সেই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়ে জামায়াত। সংগঠন হিসেবে যুদ্ধাপরাধে জড়িত থাকায় হাইকোর্টের রায় মেনে দলটির নিবন্ধন বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। এ নিয়ে আদালতে মামলা ঝুলে আছে। তবে প্রকাশ্য কর্মসূচি না থাকলেও জামায়াতে ইসলামী এখনো ভেতরে ভেতরে বেশ সংগঠিত বলে অনেকে মনে করেন। এ অবস্থায় আগামী নির্বাচনে জামায়াতের ভূমিকা কী হবে—সে বিষয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের আগ্রহ রয়েছে।

জানা যায়, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলই কৌশলী অবস্থান নিতে চাইছে। জামায়াতের সঙ্গে পুরোনো সম্পর্ক বজায় রেখেই সরকারবিরোধী আন্দোলনে অন্যান্য দলকে পাশে চায় বিএনপি। এজন্য আপাতত চারদলীয় জোটকে নিষ্ক্রিয় রাখা হচ্ছে। বিএনপির কয়েকজন নেতা জামায়াতের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

তবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনোরকম সমঝোতার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম বলেন, এ সরকারকে এখন আর কেউ বিশ্বাস করে না, এরা রক্ষকের স্থানে দাঁড়িয়ে ভক্ষকে পরিণত হয়েছে। এজন্য জনগণকে নিয়ে আমরা কেয়ারটেকার সরকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন করছি।

বিএনপির সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, একসময় জোটভিত্তিক আন্দোলন হয়েছে, আমরা বিএনপি জোটে ছিলাম। বর্তমানে যুগপৎ আন্দোলনের দিকে দেশ অগ্রসর হচ্ছে। অধিকাংশ বিরোধী দল যুগপৎ ধারার আন্দোলনের পক্ষে, আমরাও যুগপৎ আন্দোলনের বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করি।

এদিকে জাতীয় সংসদসহ বিভিন্ন নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে প্রার্থী দিয়ে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোট পাওয়ায় বড় দলগুলোর কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত কোনো বড় দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার চিন্তা না থাকলেও পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে চান দলটির নীতি-নির্ধারকরা।

জানা গেছে, কৌশলগত কারণে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সমঝোতা না করলেও এই দলটিকে আস্থায় রাখতে চায় আওয়ামী লীগ। বিএনপিসহ বেশিরভাগ দল বয়কট করলে ধর্মভিত্তিক এই দলটিকে নির্বাচনমুখী করতে সব ধরনের চেষ্টা করবে ক্ষমতাসীনরা। অন্যদিকে সরকারবিরোধী আন্দোলন ও নির্বাচন প্রশ্নে তাদের পাশে রাখতে চায় বিএনপিও। সেজন্য উভয় দলের পক্ষ থেকেই ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

তবে বড় দুই দলের সঙ্গে কোনো রকম সমঝোতার সম্ভাবনা নেই জানিয়ে ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় রাজনীতি করছে। আমরা মুখে যা বলি বাস্তবেও তাই করি। এর পরও কেউ যদি বলে, আমরা কারও পক্ষে, তাহলে তারা অন্য কারও এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা ইসলামী ও সমমনা অন্যান্য দলের সঙ্গে একটি ঐক্য প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এই ঐক্য প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান।

এদিকে রাজনৈতিক দল না হলেও দেশের রাজনীতিতে হেফাজত একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক বিভিন্ন দল এবং দলনিরপেক্ষ আলেমদের মধ্যে এই সংগঠনটির রয়েছে শক্তিশালী অবস্থান। ২০১০ সালে সরকারের নারী উন্নয়ন নীতিমালার বিরুদ্ধে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই সংগঠনটি আলোচনায় আসে। এরপর জাতীয় শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় দলটি। ২০১৩ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার রায়কে কেন্দ্র করে শাহবাগে গড়ে ওঠা আন্দোলনের বিপরীতে মতিঝিল শাপলা চত্বরে অবস্থান নিয়ে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করে হেফাজত। ১৩ দফা দাবি তুলে ধরে ওই বছরের ৫ মে সারা দেশ থেকে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জড়ো করা হয়। সরকার পতনের হুমকি দিয়ে সেই সমাবেশ থেকে মতিঝিল-পল্টন এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। এই তৎপরতার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয় সরকার। গভীর রাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ওই সমাবেশ পণ্ড হয়ে যায়।

এরপর হেফাজতে ইসলামের তৎকালীন আমির শাহ আহমদ শফীর সঙ্গে সরকারের একটি অংশের যোগাযোগ ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে হেফাজতকে কাছে টানতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছাড় দিতে থাকে আওয়ামী লীগ। তাদের প্রস্তাব মেনে ২০১৭ সালে পাঠ্যবইয়ে বেশকিছু সংশোধনী আনা হয়। কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে সাধারণ শিক্ষার স্নাতকোত্তর ডিগ্রির মর্যাদা দেওয়া হয়।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান অতিথি করে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শোকরানা মাহফিলের আয়োজন করে হেফাজত। ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধি দেওয়া হয়। তবে আহমদ শফীর মৃত্যুর পর হেফাজতের আমিরের দায়িত্ব পান জুনায়েদ বাবুনগরী। আহমদ শফীর অনুসারীদের অনেকেই কমিটি থেকে বাদ পড়েন। এর পর থেকে হেফাজতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের দূরত্ব তৈরি হয়। জুনায়েদ বাবুনগরীর মৃত্যুর পর সংগঠনের আমিরের দায়িত্ব পালন করছেন শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, শাহ আহমদ শফীর অনুসারীরা বর্তমানে হেফাজতে ইসলামীর নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারছেন না। গত ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে বেশ কয়েকজন সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠক থেকেই আগামী ১৭ ডিসেম্বর ঢাকায় জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে হেফাজত নতুন করে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে চাইছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

নির্বাচনের আগে হেফাজতের সাংগঠনিক তৎপরতা বড় রাজনৈতিক দলগুলোকে নতুন করে চিন্তায় ফেলেছে। সংগঠনটিকে নতুন করে আস্থায় নিতে চাইছে আওয়ামী লীগ। সে লক্ষ্যে সংগঠনটির দুই মতের অনুসারীদের সঙ্গে বিভিন্ন  মাধ্যমে যোগাযোগ করা হচ্ছে। সাংগঠনিকভাবে হেফাজত যাতে বিএনপির দিকে ঝুঁকে না যায়— সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে চান সরকারি দলের নতি-নির্ধারকরা। অন্যদিকে নানা ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতার বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরতে হেফাজতকে পাশে চায় বিএনপি। ২০ দলীয় জোটের শরিক দলের বেশ কয়েকজন নেতা এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আছেন। তাদের মাধ্যমেই হেফাজতকে সরকারের কাছ থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

অবশ্য হেফাজত নেতারা বলছেন,রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে তাদের কোনো ভাবনা নেই। ২০১৩ সালে তারা যে ১৩ দফা দাবি দিয়েছিলেন, তারমধ্যে অনেক এখনো পূরণ হয়নি। সেসব দাবি সামনে রেখেই অগ্রসর হতে চান তারা।

হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা সাজেদুর রহমান বলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ একটি অরাজনৈতিক ইসলামি দ্বীনি সংগঠন। দেশের মুসলমানদের ইমান আকিদা হেফাজত ও সংরক্ষণই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। এ সংগঠনের রাজনৈতিক কোনো লক্ষ্য, অভিলাষ বা পরিকল্পনা নেই। ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই আগামী দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আমাদের সাংগঠনিক কোনো চিন্তা বা পরিকল্পনা নেই।

নির্বাচন সামনে রেখে ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ উপমহাদেশের একটি প্রাচীনতম অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল। দেশের রাজনীতিতে অসাম্প্রদায়িক শক্তি যারা আছে, তাদের সঙ্গেই আওয়ামী লীগের মোর্চা হবে। যারা সাম্প্রদায়িক রাজনীতির চর্চা করে এবং যারা সাম্প্রদায়িক রাজনীতির পৃষ্ঠপোষক, তাদের সঙ্গে জোট কিংবা সমঝোতা হবে না।

আওয়ামী লীগের এ নেতা আরও বলেন, এ সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী ও যুদ্ধপরাধীদের দলকে বিএনপি নিজেদের দিকে টানবে এটিই স্বাভাবিক, আওয়ামী লীগ নয়। আর বাংলাদেশের মানুষ কোনো দিনই যুদ্ধাপরাধী, মানবতাবিরোধী ও একাত্তরের পরাজিত শক্তিকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপি এই মুহূর্তে নির্বাচন নিয়ে কিছু ভাবছে না। আমরা এখন নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে গণসমাবেশ করছি। আগে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার হবে। তারপর অন্য কিছু। ধর্মভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
সূত্র : কালবেলা

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019
Design Customized By:Our IT Provider