দশ মাসেও চালু  হয়নি হাটহাজারী ট্রমা সেন্টার,  হতাশ হাটহাজারীবাসী

সুমন পল্লব, হাটহাজারী( চট্টগ্রাম) : উদ্বোধনের সাড়ে চার বছর পর দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার্থে হাটহাজারী ট্রমা সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেয়ায় আশার সঞ্চার হয়েছিল হাটহাজারীবাসীর প্রাণে। গত বছরের ১ নভেম্বর তৎকালীন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টার একান্ত সচিব ড. মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম ট্রমা সেন্টার পরিদর্শন শেষে ট্রমা সেন্টার চালুতে আশ্বাস প্রদান করেছিলেন। আশ্বস্ত করে তিনি বলেছিলেন, হাটহাজারী ও পার্শ্ববর্তী উপজেলাসহ তিন পার্বত্য জেলার দুর্ভোগ লাঘবে আপাতত ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল তাদের পক্ষ থেকে চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয়সহ প্রয়োজনীয় সকল সরঞ্জাম দিয়ে ট্রমা সেন্টারটি চালু করা হবে। পরবর্তীতে সরকার জনবল নিয়োগ দিলে ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল তাদের উপর দায়িত্ব ন্যস্ত করবেন এবং এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘ ১০ মাস অতিক্রম করলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এদিকে হাটহাজারীতে একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের পাশাপাশি আহত হয়েছেন অনেকে। দুর্ঘটনায় অনেকের হাত পা কোমরসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ভেঙ্গে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। সম্প্রতি চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া বোর্ড স্কুল এলাকায় একাধিক দুর্ঘটনায় এক কলেজ শিক্ষার্থীসহ নিহত হয়েছেন দুইজন। আহত হয়ে কলেজ শিক্ষার্থীসহ এখনও চিকিৎসাধীন অনেকে। স্থানীয়দের দাবি ট্রমা সেন্টার চালু থাকলে হয়ত অনেকেই দ্রুত চিকিৎসা নিতে পারতেন। ফিরে পেতেন স্বাভাবিক জীবন। দুর্ঘটনার পর পর হাটহাজারীর যানজট পেরিয়ে নগরীর ব্যস্ততম চমেক হাসপাতালে পৌঁছাতে বিড়ম্বনার শিকার হতে হন। নির্ধারিত সময়ে সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ায় বেড়ে যায় হতাহতের সংখ্যা। অনেকেই নিহত কিংবা চিরতরে পঙ্গুত্ববরণ করেন।

জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ তাপস কান্তি মজুমদার উদ্বোধনের পর থেকেই ট্রমা সেন্টার চালু করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে অসংখ্যবার। গত বছরের নভেম্বরে ইন্টান্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্যোগে চালু করার কথা থাকলেও হয়নি। আবারো লিখিতভাবে জানানো হবে।

এদিকে চলতি মাসের ১৪ তারিখ সদ্য যোগদান করা চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান ট্রমা সেন্টার পরিদর্শন করেছেন। তিনি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন বলে জানান। তবে আবারো আশার বাণী শুনালেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ডাঃ সেখ ফজলে রাব্বি। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে জনবল নিয়োগের কার্যক্রম সম্পন্ন। এখন অর্থের কোড পেলেই কার্যক্রম শুরু করা যাবে। কর্তৃপক্ষ আজকেও (গতকাল) হাটহাজারী ট্রমা সেন্টার নিয়ে তথ্য নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

জানা গেছে, ২০২১ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (এইচইডি)’র বাস্তবায়নে ৪ এপ্রিল ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে জনগণের স্বাস্থ্য সেবার সুবিধার্তে চারতলা বিশিষ্ট এ ট্রমা সেন্টারটি নির্মাণ শেষে উদ্বোধন করা হয়।

Share this news as a Photo Card

দশ মাসেও চালু  হয়নি হাটহাজারী ট্রমা সেন্টার,  হতাশ হাটহাজারীবাসী

20 September 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
Facebook.com/sathikkhabor
www.sathikkhabor.com