
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের হালিশহর বিআরটিএ কার্যালয়ে যানবাহনের ফিটনেস সনদ প্রদানকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সেবা নিতে আসা একাধিক ভুক্তভোগীর দাবি, সরকারি নির্ধারিত ফি প্রায় ৭ হাজার টাকা হলেও ফিটনেস সনদ পেতে অতিরিক্ত ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। অনেকের ভাষায়, কার্যালয়টিতে ঘুষের লেনদেন এখন যেন ‘ওপেন সিক্রেট’।
সম্প্রতি সরেজমিনে হালিশহর বিআরটিএ কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ফিটনেস পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন ধরনের যানবাহন সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা করছিলেন। তবে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন কর্মকর্তা হঠাৎ করেই পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে স্থান ত্যাগ করেন। পরে সাংবাদিকরা বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর শুরু করলে কিছু সময় পর তারা আবার ফিরে এসে ফিটনেস পরীক্ষা চালিয়ে যান।
ভুক্তভোগী ট্রাক মালিক মো. আবদুল করিম (ছদ্মনাম) বলেন, সরকারি ফি তো দিতেই হয়। কিন্তু দ্রুত ফিটনেস পেতে হলে দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে নানা অজুহাতে দিনের পর দিন ঘুরতে হয়।
আরেক সেবাগ্রহীতা মো. সাইফুল ইসলাম (ছদ্মনাম) বলেন, গাড়ি ঠিক থাকলেও নানা ত্রুটি দেখিয়ে আটকে রাখা হয়। পরে দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে খুব সহজেই কাজ হয়ে যায়।
সরেজমিনে আরও দেখা যায়, কার্যালয়ের ভেতরে ও বাইরে বেশ কয়েকজন দালাল প্রকাশ্যেই সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তারা দ্রুত ফিটনেস, রেজিস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করছেন। সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, দালালের সহযোগিতা ছাড়া অনেক সময় নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করাই কঠিন হয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা সড়ক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যথাযথ পরীক্ষা ছাড়া ফিটনেস সনদ দেওয়া হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআরটিএ চট্টগ্রাম (হালিশহর) কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেন অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, বিআরটিএতে সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করেই ফিটনেস সনদ দেওয়া হয়। অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া বা অনিয়মের অভিযোগ সঠিক নয়। কেউ যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ দেন, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই কার্যালয়ে দালালচক্র সক্রিয় থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তারা হালিশহর বিআরটিএ কার্যালয়ের ফিটনেস কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত, দালালচক্র নির্মূল এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।












