
বিশেষ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হারুয়ালছড়িতে রূপক বড়ুয়া (পিতা: পিন্টু বড়ুয়া, মাতা: প্রতিমা বড়ুয়া) নামের এক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বৌদ্ধ ভিক্ষুকে মারধর, স্থানীয় বৌদ্ধ বিহারে হামলা এবং পরিবারকে হুমকির দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ধর্ম অবমাননা ও ধর্মান্তরিত করার মিথ্যা ও ভুয়া অভিযোগ তুলে গত বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় আনুমানিক ৭:০০ ঘটিকায় এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে রূপক বড়ুয়া কদলপুরে অবস্থিত ‘বাংলাদেশ ভিক্ষু প্রশিক্ষণ ও সাধনা কেন্দ্র’ থেকে কাজ শেষ করে তার নিজ গ্রাম হারুয়ালছড়ি বৌদ্ধ জেতবন বিহারের উদ্দেশ্যে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে নিজ বিহার থেকে ৫-৬ মিনিট দূরে নয়াহাট এলাকায় ৫-৬ জনের একটি দল তার পথরোধ করে। হামলাকারীরা তার বিরুদ্ধে দরিদ্র মুসলিম পরিবারগুলোকে বৌদ্ধ ধর্মে ধর্মান্তরিত করার ভুয়া ও ভিত্তিহীন অভিযোগ আনে এবং তাকে ধর্মীয় কাজ বন্ধ করার হুমকি দেয়।
এ নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে উক্ত ব্যক্তিরা রূপক বড়ুয়াকে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করে। পরবর্তীতে তারা স্থানীয় একটি মসজিদের মাইক ব্যবহার করে উসকানিমূলক বার্তা ছড়িয়ে দেয় এবং রূপক বড়ুয়া ইসলামের বিরুদ্ধে অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছেন বলে ভিত্তিহীন গুজব রটায়।
গুজব ছড়ানোর প্রায় এক ঘণ্টা পর মাওলানা সাব্বির নামের এক স্থানীয় জামায়াত নেতার নেতৃত্বে একদল লোক হারুয়ালছড়ি বৌদ্ধ জেতবন বিহারে হামলা চালায় এবং রূপক বড়ুয়াকে খুঁজতে থাকে। হামলা ও পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে রূপক বড়ুয়া আগেই সেখান থেকে আত্মগোপনে চলে যান। তাকে না পেয়ে হামলাকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বিহারে অবস্থানরত বোধিশ্রী ভিক্ষুকে বলেন, রূপক বড়ুয়া দেশের যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন, তাকে খুঁজে বের করে হত্যা করা হবে।
পরবর্তীতে হামলাকারীরা রূপক বড়ুয়ার বসতবাড়িতে গিয়ে তাণ্ডব চালায়। তারা ঘরে থাকা তার বয়োবৃদ্ধ মা-বাবাকে মারধর করে এবং রূপক বড়ুয়াকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিয়ে এলাকা ত্যাগ করে।
স্বজনদের দাবি, এরপর স্থানীয় একটি মসজিদের মাইকে রুপক বড়ুয়ার বিরুদ্ধে ইসলাম অবমাননার অভিযোগ প্রচার করা হয় যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। পরে একদল লোক বৌদ্ধ জেতবন বিহারে গিয়ে তাকে খোঁজাখুঁজি করে। তাকে না পেয়ে সেখানে অবস্থানরত ভিক্ষুকে হুমকি দেওয়া হয় এবং রুপক বড়ুয়ার বাড়িতে গিয়ে তার বাবা-মাকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা।
এদিকে বাড়িতে অবস্থানরত রূপক বড়ুয়ার বৃদ্ধ মা-বাবা এখনও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছে পরিবার। তাদের ভাষ্য, ঘটনার পর থেকে তারা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এবং ছেলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের শেষ নেই।
এই ঘটনায় পুরো এলাকায় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।












