
সুমন পল্লব, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বন উজাড় ও বনভূমি দখল প্রতিরোধে বন বিভাগের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়ভাবে বন উজাড়ের অভিযোগ ও উদ্বেগ বাড়লেও সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান অভিযান কিংবা কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না। ফলে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে সবুজ অরণ্য, ঝুঁকির মুখে পড়ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।
অভিযোগ উঠেছে, হাটহাজারী বন বিভাগে আয়ুব আলী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বন উজাড়ের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য কোনো অভিযান জনসমক্ষে দৃশ্যমান হয়নি। বনভূমি রক্ষায় নিয়মিত তদারকি, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং কাঠ পাচার প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে অভিযানের অগ্রগতি জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তার কাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে দায়সারা ধরনের উত্তর—এমন অভিযোগও রয়েছে। তিনি দু-একটি অভিযান পরিচালনার কথা স্বীকার করলেও সেসব অভিযানের বিস্তারিত তথ্য, ফলাফল কিংবা গণমাধ্যমে প্রকাশযোগ্য কোনো দৃশ্যমান তথ্য সামনে আসেনি বলে জানা গেছে।
এদিকে বন উজাড় অব্যাহত থাকার পেছনে বন বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, বন রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিতদের যথাযথ তৎপরতার অভাবেই অবৈধ কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এমনকি আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অবৈধ কার্যক্রম চলতে দেওয়ার সন্দেহও প্রকাশ করছেন কেউ কেউ।
প্রশ্ন উঠেছে, বন রক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা যদি বন উজাড়ের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপই নিতে না পারেন, তাহলে সরকারি বনভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করবে কে? বন বিভাগের অভিযান কি কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ, নাকি বাস্তবে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে?
পরিবেশ সচেতন মহলের দাবি, হাটহাজারীর বনভূমি উজাড়ের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। পাশাপাশি গত কয়েক মাসে পরিচালিত অভিযানের সংখ্যা, জব্দ করা কাঠ, দায়ের করা মামলা, জরিমানা এবং বনভূমি উদ্ধারের প্রকৃত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।
বন বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় এনে বন উজাড়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।












