
সুমন পল্লব, হাটহাজারী চট্টগ্রাম : হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নামমাত্র মূল্যে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সরকারি ব্যবস্থা ও যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের অনৈতিক প্রবণতার কারণে রোগীদের প্রায়ই বেসরকারি ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে যা সাধারণ মানুষের বাড়তি আর্থিক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রোগীদের নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে দাবা খেলার মত এ চাল চলে আসলেও কেউ ব্যবস্থা নেয়নি।
জানা গেছে, ৫০ শয্যার হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় প্রতিদিনই রোগীতে ভরপুর থাকে। নির্ধারিত শয্যা পেরিয়ে নিচের বেডেও ভর্তি থাকে অসংখ্য রোগী। শিশু, নারী ও পুরুষ ওয়ার্ডে
জ্বর, পেট ব্যাথা, ডায়রিয়া, বমি বিশেষ করে শ্বাসকস্টের রোগী নেই এমন ওয়ার্ড খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। রোগী ভর্তির পর বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ভর্তিকৃত রোগীর সঠিক কারণ নির্ণয়ে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রেসক্রাইব করেন। দেখা গেছে, গরিব অসহায় দিনমজুর রোগীদের দু একটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা নামমাত্র মূল্যে সরকারি ল্যাবে করালেও অধিকাংশ পাঠিয়ে দেয়া হয় বেসরকারি ল্যাবে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভর্তি কৃত রোগীর রোগ নির্ণয়ে চিকিৎসকের লিখে দেয়া পরীক্ষা নিরীক্ষার স্লিপ (ফরম) নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালের ল্যাবে যেতে হচ্ছে রোগীদের। এ চিত্র প্রায় প্রতিদিন দৃশ্যমান। কখনও দুু একটি সরকারি ল্যাবে করা হলেও পরবর্তীতে আবারো সেগুলো বেসরকারি ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে। সরকারি ল্যাবে নামমাত্র মূল্যে সম্পন্ন করতে পারলেও বেসরকারি ল্যাবে গুনতে হয় তার দ্বিগুন থেকে কয়েকগুন।
একদিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার বাড়তি টাকা অপরদিকে ল্যাবে যাতায়াত খরচে বিপাকে রোগী ও তাদের স্বজনরা। টাকা বাঁচাতে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে কর্তৃপক্ষের অনৈতিক প্রবণতায় বেসরকারি ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা এ যেন মরার উপর খরার গা। দেখার যেন কেউ নেই।
সূত্রে জানা গেছে, এ অনৈতিক কাজে কিছু চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ড বয় এবং বেসরকারি হাসপাতালের দালাল চক্র জড়িত। তারা কেবলমাত্র নিজেদের হীন স্বার্থ (টাকা) আদায়ে রোগীদের এভাবে কস্টের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যেন হারিয়ে গেছে মানবতা। ভর্তিকৃত অধিকাংশ রোগীই জানান, হাসপাতালে নাকি সব পরীক্ষা হয়না আবার হলেও রিপোর্ট নাকি সঠিক আসেনা তাই রোগ নির্ণয়ে বেসরকারি ল্যাবে পাঠায়।
আক্ষেপ করে অনেকেই বলেন, গরিবদের জন্য সরকার সরকারি হাসপাতাল করেছেন। কিন্তু এখানে এখন যা চলছে ভাষায় প্রকাশ করা বা প্রতিবাদ করার ক্ষমতা আমাদের নাই। নরমাল দুএকটি ওষুধ বিনামূল্যে দিলেও অধিকাংশ ওষুধ বাহির থেকে কিনতে হয়। এখন যোগ হয়েছে বাহিরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা। তাহলে সরকারি হাসপাতালে এসে কি সুবিধা পাবে সাধারণ মানুষ। বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়াই তো ভাল। কিন্তু সাধারণ মানুষের পক্ষে কি সম্ভব। একসময় পরীক্ষা নিরীক্ষার ভাল টেকনিশিয়ান, এক্সরে মেশিন, আলট্রা মেশিনসহ অনেক কিছুর সংকট থাকলেও বর্তমানে প্রায় সবকিছুই আছে হাটহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, কিছু টেষ্ট আছে যা এখানে নাই তা বাহিরে করার পরামর্শ দেয়া হয়। তবে হাসপাতালে থাকা সত্ত্বেও রোগীদের বাহিরে পাঠানো এটা অমানবিক। তিনি বলেন, চোখে দেখলেও প্রতিবাদ করার বা বলার পরিস্থিতি নাই। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দের সঠিক পর্যবেক্ষণ এবং সামাজিকভাবে মানুষ যতক্ষণ সচেতন না হয় এর পরিধি দিন দিন বাড়বে।
কিছুদিন আগে হাটহাজারীর এক প্রবীণ সাংবাদিক তীব্র জ্বর নিয়ে ভর্তি হলে রোগ নির্ণয়ে নিজস্ব ল্যাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করালেও পাশাপাশি বেসরকারি ল্যাবেও পরীক্ষা নিরীক্ষা করিয়েছেন। দেখা গেছে একই পরীক্ষা দ্বিতীয়বার বেসরকারি ল্যাবে করানো হয়েছে। অথচ সরকারি ল্যাবে প্রবীণ ওই সাংবাদিকের ডেঙ্গু ধরা পড়েছিল।
অনেকেই বলন, আগে এমন ছিলনা বর্তমান স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা যোগ দেয়ার পর থেকেই অনিয়ম দুর্নীতির মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি অনতিবিলম্বে লাগাম টেনে না ধরলে চরম নৈরাজ্য সৃষ্টি হবে হাটহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।












