হাটহাজারীতে ছয় মাসে সাড়ে তিনশতাধিক উন্নয়ন প্রকল্প সম্পন্ন, প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের নেতৃত্বে বদলে যাচ্ছে জনপদ

সুমন পল্লব, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ) আসন শিক্ষা ও ধর্মীয় সম্প্রীতির এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ঐতিহাসিক হাটহাজারী বড় মাদরাসাসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এই এলাকায় অবস্থিত হলেও দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এখানকার মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিলেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

তবে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই এলাকাটিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের উদ্যোগে সড়ক, সেতু-কালভার্ট নির্মাণ, খাল খনন, জলাবদ্ধতা নিরসন, বিদ্যুৎ-সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ধর্মীয়-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হয়েছে।

৪৫০ প্রকল্পের মধ্যে ৩২৯টি সম্পন্ন

দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিনের মধ্যে হাতে নেওয়া ৪৫০টি প্রকল্পের মধ্যে ৩২৯টির কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সরকারি বরাদ্দের ২৭টি প্রকল্প শতভাগ শেষ হয়েছে, আর বর্তমানে চলমান ৪৮টি প্রকল্পের গড় অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৬৪ শতাংশে।

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন জানান, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সবচেয়ে জরুরি প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী

– মসজিদ-ঈদগাহে সম্পন্ন হয়েছে ৩৮টি প্রকল্প
– মাদরাসা ও হেফজখানায় ২৫টি
– শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৫টি
– খাল ও জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৯টি
– সেতু-কালভার্ট নির্মিত হয়েছে ১২টি
– পানি-বিদ্যুৎ-সেচ খাতের ৪৮টি প্রকল্পই শতভাগ সম্পন্ন
– ভূমি ও সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার কার্যক্রমও শতভাগ সফল

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

হাটহাজারী পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক জাকের হোসেন বলেন, গত ১৭ বছরে যে উন্নয়ন হয়নি, তা এই ছয় মাসেই সম্ভব হয়েছে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, হাটহাজারী বাস স্টেশন এলাকায় দীর্ঘদিনের যানজট সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের ফলে কার্যত দূর হয়ে গেছে। এছাড়া খাল খনন ও নালা পরিষ্কারের কারণে এবার এলাকায় জলাবদ্ধতাও দেখা যায়নি বলে জানান তিনি। ৬০০ শয্যার একটি হাসপাতাল এবং একটি মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণেরও পরিকল্পনা চলছে বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য

প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, ১৮০ দিন সময়ের হিসেবে সংক্ষিপ্ত হলেও দায়িত্বের ভার অনেক বড়। এই সময়ে উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ এই চার মূলনীতিকে সামনে রেখে কাজ করেছেন বলে জানান তিনি। সরকারের সব কার্যক্রম ধাপে ধাপে সমন্বিত ডাটাবেইসে সংরক্ষণ করা হবে, যাতে জনগণ নিজেরাই প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন এমন পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

ডিজিটাল ভূমিসেবা ও অন্যান্য উদ্যোগ

ইতোমধ্যে চালু হয়েছে শতভাগ স্বয়ংক্রিয় ভূমিসেবা অ্যাপ, যার মাধ্যমে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, নামজারি ফি জমা, খতিয়ান সংগ্রহ, মৌজা ম্যাপসহ যাবতীয় সেবা পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি হেল্পলাইন নম্বর ১৬১২২-এর মাধ্যমেও সহায়তা মিলছে।

হাটহাজারী-রাঙামাটি মহাসড়কে বসানো হয়েছে সৌরবিদ্যুৎ চালিত স্মার্ট স্ট্রিট লাইট, যা সড়কটিকে করেছে আরও নিরাপদ ও আধুনিক। এছাড়া হাটহাজারী পৌরসভায় ব্যাংক বুথ স্থাপন, দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে নাগরিকসেবা আরও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে হাটহাজারী উপজেলায় প্রায় ৩ লাখ ৬২ হাজার গাছের চারা রোপণের কার্যক্রম চলছে। পার্বত্য চট্টগ্রামেও একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে রাঙামাটির আসামবস্তি শ্মশানঘাটে গভীর নলকূপ স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে, আর রাজস্থলীর দুর্গম কুক্যাছড়ি খিয়াং পাড়ায় সুপেয় পানির সংকট নিরসনে কাজ শুরু হয়েছে।

চলমান কিছু প্রকল্প

বর্তমানে মির্জাপুর ইউনিয়নে সেচ পাইপলাইন নির্মাণ, শিকারপুর ইউনিয়নের বাথুয়া গ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রম, পশ্চিম চারিয়ায় আনিস খাল সংলগ্ন সড়ক মেরামত, মেখলে হারিয়াননালা খাল খনন, বউ বাজার-দশতলা এলাকায় নালা পরিষ্কার, চৌধুরীহাট-মদুনাঘাট সড়ক সংস্কারসহ একাধিক প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।

Share this news as a Photo Card

হাটহাজারীতে ছয় মাসে সাড়ে তিনশতাধিক উন্নয়ন প্রকল্প সম্পন্ন, প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের নেতৃত্বে বদলে যাচ্ছে জনপদ

21 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
Facebook.com/sathikkhabor
www.sathikkhabor.com